কৃষি শিক্ষা ব্যবহারিক পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রীকে ডিম আনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। যারা ডিম দিবেনা তাদের ব্যবহারিক পরীক্ষায় ‘ডাবল জিরো’দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পন্থিছিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লাকি বেগম এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। এই ঘটনায় একদিকে যেমন এলাকায় হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে অন্যদিকে অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিভাবকরা জানান, ব্যবহারিক পরীক্ষায় হাতের তৈরি যেকোন কিছু বিদ্যালয়ে জমা নেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন কিছু তৈরির ইচ্ছার পাশাপাশি সৃজনশীলতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাধ্য করে ডিম নেওয়া একজন শিক্ষিকার শোভা পায় না। তাছাড়া এই এলাকার বেশিরভাগ পরিবার অসচ্ছল। সংগ্রহ করা ডিম শিক্ষকরা ভাগ করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান।
বিষয়টি অস্বীকার করে শিক্ষিকা লাকি বেগম বলেন, ‘ডিম আনার নির্দেশনা দিয়েছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। উনার আদেশ ও সহযোগীতায় ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ডিম নেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তপন কুমার বলেন, ‘আপদকালীন মুহূর্তে ডিম খেয়ে মানুষ কিভাবে বেঁচে থাকতে পারে তা বোঝানোর জন্য ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় ডিম আনতে বলা হয়েছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা আলম সরকার বলেন, ‘শিক্ষার সাথে সম্পর্কিত হলে যেকোন কিছু দিয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া যেতে পারে। তবে ছাত্রছাত্রীদেরকে ডিম আনতে বাধ্য করা অথবা না আনলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ডিম নেওয়ার যুক্তিসংগত কোন কারণ থাকতে পারে না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
