গরমে হাফহাতা শার্ট

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৫, ০৩:৫১ এএম

এখনকার আবহাওয়া যেন লুকোচুরি খেলা। এই মেঘ-বৃষ্টি, কিছুক্ষণ পর কাঠফাটা রোদ। এমন অবস্থায় পোশাক নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিশেষ করে যাদের প্রতিদিন বাইরে বের হতে হয়। পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বস্তিদায়ক আরামের পোশাক নির্বাচনে রঙের পাশাপাশি প্রাধান্য দিতে হবে ফ্যাব্রিককে। তাই গরমে আরামে থাকা এবং ফ্যাশনেবল এই দুইকে চিন্তায় রেখে পোশাক বেছে নিতে হয়। গরমে স্বস্তিদায়ক পোশাক হতে পারে হাফহাতার শার্ট। লিখেছেন মোহসীনা লাইজু

যে আবহাওয়াই থাক না কেন ছেলেদের পোশাক নির্বাচনে খুব বেশি বৈচিত্র্য নেই। ঘুরে ফিরে সেই  ফরমাল ও ক্যাজুয়াল পোশাকের মধ্যে ফুলশার্ট, হাফহাতা শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, পোলো, ফতুয়া। চাকরিজীবী এবং নির্দিষ্ট অফিস ড্রেসকোড রয়েছে তাদের ফরমাল পোশাক পরতেই হয়। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট ড্রেসকোড নেই সেখানে সুযোগ আছে ক্যাজুয়াল পোশাক বেছে নেওয়ার। অফিস ছাড়াও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঘোরাঘুরি কিংবা কোনো কাজে বাইরে বের হলে ক্যাজুয়াল পোশাকই মানানসই। এ গরমে সে ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য পায় টি-শার্ট। এর পাশাপাশি হাফহাতার শার্টও ফ্যাশন ট্রেন্ডে জায়গা করে নিয়েছে। বাহারি রঙ, ব্লক-বাটিক প্রিন্টসহ প্রতিটি শার্টই দৃষ্টিনন্দন ও আরামদায়ক।

শার্টের ধরন

এ রকম আবহাওয়ায় পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রঙ। পোশাকের রঙ রৌদ্রোজ্জ্বল তাপে দিতে পারে স্বস্তি। অন্যদিকে ভুল রঙের পোশাক নির্বাচন এমন দিনে গরম অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই রঙ নির্বাচনে নীলাভ, হালকা গোলাপি, হালকা সবুজ, আকাশি ইত্যাদি রঙের হাফহাতার সুুতির শার্ট বেছে নিতে পারেন। গরমে একটু ঢিলেঢালা হাফহাতার সুুতির শার্ট সব দিক থেকে ভালো। এর পাশাপাশি শার্ট নির্বাচনে প্রাধান্য দিতে হবে ফেব্রিকে। ছেলেরা যেহেতু দিনের একটা বড় সময় বাইরে কাটান, তাই পোশাকটি হতে হবে আরামদায়ক কাপড়ের। এ ক্ষেত্রে সুতির চেয়ে আরামদায়ক আর কিছুই হতে পারে না। পাতলা সুতি কাপড়ে ঘামের শোষণক্ষমতা থাকে সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের কাপড় অন্যান্য কাপড়ের তুলনায় গরমের অনুভূতি কমায়। তাই সুতি, খাদি বা গ্রামীণ চেকের পোশাক হতে পারে স্বস্তিদায়ক সঙ্গী। বিশ্ব রঙ-এর স্বত্বাধিকারী বিপ্লব সাহা জানালেন, এখনকার ফ্যাশনে হাফহাতা শার্টের চাহিদা পছন্দের শীর্ষে। আপনি গরমে আরামদায়ক পোশাক হিসেবে বেছে নিতে পারেন ক্যাজুয়াল হাফশার্ট। এ শার্টে যেমন ফুটে উঠবে ফ্যাশনেবল লুক, তেমনি পাওয়া যাবে স্বস্তি। ক্যাজুয়াল হাফশার্টের কলারে এখন দেখা যায় বৈচিত্র্য। এক সময়ের চওড়া কলারের বদলে এখন সরু কলারের শার্ট  বেশি চলছে। সাধারণ ন্যারো কলারের পাশাপাশি চলছে ব্যান্ড কলার ও টিউনিক ব্যান্ড কলার। হাফহাতা ও থ্রি-কোয়ার্টার হাতায় ফোল্ডিং এখনো বেশ জনপ্রিয়। নিচের দিকে রাউন্ড লেয়ার, ডিশ লেয়ার কাট শার্ট তরুণদের পছন্দ। সিøম কাটের শার্ট বেছে নেন ফ্যাশন সচেতন তরুণরা।

বর্তমানে ক্যাজুয়াল হাফহাতার শার্টে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। ডিপডাই বা গ্র্যাফিয়েন্ট শার্ট এর মধ্যে অন্যতম। ডিপডাই হচ্ছে এক শার্টে দুই ভাগে রঙ করা। ছেলেদের ফ্যাশনে এখন এ ধরনের শার্ট বেশ জনপ্রিয়। গ্র্যাফিয়েন্ট শার্টে একটি রঙ নিচের দিকটায় গাঢ় থেকে আস্তে আস্তে ওপরের দিকে কিছুটা হালকা হয়ে বুকের কাছটায় সাদা হয়। সুতি আর লিনেন কাপড়েই অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্র্যাফিয়েন্ট ডাই করা হয় বলে এ শার্টগুলো গরমে বেশ আরামদায়ক।

ডিপডাই শার্ট একরঙা তো আছেই, কোনোটিতে আবার ফুল, লতা-পাতা বা জ্যামিতিক নকশাও রয়েছে। অরবিন্দ, ভয়েল, নরম সুতি কাপড়ের ওপর একপিঠে মেশিন ব্লকের ছাপার শার্ট হচ্ছে কুলডাই। গরমে দারুণ আরামদায়ক এই কুলডাই হাফশার্ট। এ ছাড়া ছেলেরা গরমের ট্রেন্ড হিসেবে বেছে নিতে পারেন ঢিলেঢালা কার্গো বা থ্রি কোয়ার্টার অথবা হাফহাতা শার্ট।

নরম কাপড়ে প্রিন্টের কাজসহ রঙবেরঙের শার্টও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাল ফ্যাশনে। এর মধ্যে কিছু শার্টের নকশায় রয়েছে পুরো বডি একরঙা আর কলার ও হাতের কাফগুলো অন্য রঙে সাজানো। নান্দনিকতা বৃদ্ধিতে উপস্থাপন করা হয়েছে স্ট্রাইপ দিয়েও। গ্রাফিক হাফশার্ট ও ভি-নেক হাফশার্টও এখন বেশ জনপ্রিয়। পকেটেও এসেছে নানা ধরনের বৈচিত্র্য। কোনোটায় থাকছে এক বা একাধিক পকেট, কোনোটা আবার পকেট ছাড়া। কে ক্র্যাফট-এর পরিচালক খালিদ মাহামুদ খান জানালেন, কে-ক্র্যাফট নিয়ে এসেছে কমফোর্টেবল ক্যাজুয়াল শার্টের বৈচিত্র্যময় আয়োজন। যা তরুণদের তো বটেই, যেকোনো বয়সী পুরুষকে দিনভর ব্যস্ততায় স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার পাশাপাশি দেবে ক্যাজুয়ালি ক্লাসি লুক। অতি গরমে বেছে নেওয়া যেতে পারে ক্যাজুয়াল শার্ট। প্রিমিয়াম কটন, জ্যাকার্ড কটন এবং ভয়েলের মতো আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি শার্টগুলো পরে অফিস ছাড়াও ক্যাজুয়াল আর সেমিফরমাল লুকে পার্টি, ডে আউট বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় দিন কিংবা রাত হোক রিলাক্সড থাকা যাবে সব সময়। বেশিরভাগ শার্ট সাদা এবং হালকা শেডের ওপর প্রিন্ট করা। ডিজাইনিং-এ মানানসই জিওম্যাট্রিক, ট্রপিক্যাল, ট্রাইবাল, টেরাকোটা ছাড়াও আরও অন্যান্য প্রিন্টের ব্যবহার হয়েছে, যা সংগ্রহে রাখার মতো। ডেনিম জিন্স, ফরমাল প্যান্ট অথবা চিনোসের সঙ্গেও ভালো মানিয়ে যাবে।

কোথায় পাবেন

ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড সব ছেলেদের পোশাকের দোকানেই পাবেন দেশি-বিদেশি হাফহাতার শার্ট। তবে দেশের ফ্যাশন হাউজের মধ্যে আড়ং-এর স্ক্রিনপ্রিন্টের সুতির হাফহাতার শার্টেও চাহিদা শীর্ষে। এর পরে আছে গ্রামীণ চেক। তাদের নানা রঙের শার্ট একদিকে যেমন সব বয়সীদের মানিয়ে যায় তেমনি কাটিং প্যাটার্নেও বৈচিত্র্য খুঁজে পাবেন। এছাড়া দেশীয় ব্র্যান্ড ইজি, প্লাস পয়েন্ট, অঞ্জনস, বিশ্ব রঙ, কে ক্র্যাফট, সারা লাইফস্টাইলে পাবেন হাফহাতা শার্টের বিশাল সংগ্রহ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত