কোচিং পদ্ধতি ঢেলে সাজাতে চান বুলবুল

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, ১২:১৯ এএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ নিয়োগের বেলায় কর্তাব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ইচ্ছাই প্রাধান্য পেয়ে আসছে বেশিরভাগ সময়। জাতীয় দলের সঙ্গে বয়সভিত্তিক দল কিংবা ‘এ’ দলের কোচিং পদ্ধতির কোনো সামঞ্জস্য নেই। ফলে শীর্ষপর্যায়ে এসেও অনেক ক্রিকেটারকেই মনে হয় অপরিণত। এ সমস্যাটা দূর করতে কোচিং পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চাইছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের আয়োজনে ৩৯তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এ কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় দল সবচেয়ে বেশি ভুগছে ব্যাটিং নিয়ে। ওয়ানডে ম্যাচে নিয়মিত পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করার সামর্থ্যও দেখাতে পারছেন না ব্যাটসম্যানরা। অজ্ঞাতকুলশীল সব লোকের হাতেই লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং শেখানোর দায়িত্ব। এ নিয়ে বুলবুলের অভিমত, ‘ক্রিকেটের যতগুলো স্কিল আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে ব্যাটিং আর লেগস্পিন বোলিং। ব্যাটিংয়ের ব্যাপারটা, এটি শিখতে হয়। ঘরোয়া ক্রিকেট বলেন, একটা ধারাবাহিক কোচিং পদ্ধতির অধীনে থাকা বলেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ বলেন; সব মিলিয়ে ব্যাটিং কঠিন একটা কাজ। আমি বিশ্বাস করি, ব্যাটিং কোচ অনেকটা ডাক্তারের ভূমিকা পালন করে। ডাক্তারের মতো ব্যাটিং কোচকেও রোগ নির্ণয় করতে হয়, ওষুধ দিতে হয়; ব্যাটিং কোচটা অত্যন্ত জরুরি। কোচিং ম্যানুয়াল বলে প্রথম বলটা ফ্রন্টফুটে ডিফেন্স করতে আর টি-টোয়েন্টি বলে প্রথম বল থেকেই আক্রমণে যেতে। এই যে বৈচিত্র্য, সেটা একজন খেলোয়াড়কে রপ্ত করতে হয়। আমি বিশ্বাস করি, যেই ব্যাটিং কোচ হোক আমরা যেন সঠিক মানুষকে বেছে নিই এবং দীর্ঘসময় ধরে রাখি। একই ধাঁচের ব্যাটিং আমাদের হাই-পারফরম্যান্স দল, এ দল, জাতীয় দল সবাই যেন একই পদ্ধতি অনুসরণ করে। তাহলে একজন ব্যাটসম্যান সঠিক পথ ধরে ওপরে উঠে আসবে।’

জাতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনকে নিয়ে বুলবুল বলেছেন, ‘উনি তো এখনো ব্যর্থ হননি, ভালো করছেন। আপনি দেশীয় কোচ আশা করছেন, তবে দেশীয় কোচ এই পর্যায়ে (জাতীয় দল) কোচিং করানোর মতো যে পর্যায়ের প্রশিক্ষণ বা সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল, বিগত বহু বছর আমরা সেটি দিতে পারিনি। আমি এখানে ঘোষণা দিতে চাই, আগস্ট মাসের শেষে আমরা একটা লেভেল-থ্রি কোচিং কোর্স করাব, যেখানে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হতে পারবেন। আমরা একটা কোচিং সামিট করব সেপ্টেম্বরে, যেখানে আমরা ব্যাটিং কোচ, ফাস্ট বোলিং কোচ, ফিল্ডিং কোচ, উইকেটকিপিং কোচ এই স্পেশালাইজড কোচিং কোর্সটা আমরা সেপ্টেম্বরে করব আর অচিরেই দেশের যে কোচরা আছেন, তাদের আপগ্রেড করব এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করব, কারণ আমাদের কোচদের যদি সুযোগটা না দিই, তাহলে তাদের প্রতি অবিচার হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত