ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৫টি ব্যাংক হিসাবে ১২১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এসব মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
দুদক মহাপরিচালক বলেন, দুদকের অনুসন্ধানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নামে ৪৮ কোটি ৬৫ লাখ ৪ হাজার ৪০১ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২০ কোটি ৫ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯ টাকার সম্পদ অর্জনের গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া যায়। অবশিষ্ট ২৮ কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার ২৩২ টাকা অর্জনের গ্রহণযোগ্য কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। তিনি এ পরিমাণ সম্পদ অবৈধ উপায়ে অর্জন করে নিজ ভোগ-দখলে রাখায় এবং তার চারটি ব্যাংক হিসাবে ৬২ কোটি ৬০ হাজার ৯৮৪ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করার অপরাধে একটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের স্ত্রী শাহিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি ৭৬ লাখ ৯৩ হাজার ২১৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগ-দখলে রাখা এবং তার ১১টি ব্যাংক হিসাবে ৫৯ কোটি ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮৭ টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে একটি মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া তাদের সন্তান নুরিন তাসমিয়া সিদ্দিকের নামে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ১৭ হাজার ১৯২ টাকার এবং বুশরা সিদ্দিকের নামে ৪ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করার অভিযোগে আরও দুটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে তারিক সিদ্দিক, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৬১ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার ৭২৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পেয়ে চারটি মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিটি মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিককে আসামি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগির দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো করা হবে।
