যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর ৭ লাখ টন গম কিনবে সরকার

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫, ০২:৪০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ সরকার দেশটি থেকে আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বছরে ৭ লাখ টন গম আমেরিকা থেকেই আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এভাবে আগামী পাঁচ বছর গম আমদানি করতে আমেরিকা ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

গতকাল রবিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ কে সওয়ার স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

যদিও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টিমান এবং খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখার লক্ষ্যে আমেরিকা থেকে গম আমদানির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ৭ লাখ টন উচ্চমানের গম আমদানির বিষয়ে এ সমঝোতা স্মারক।

খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে আস্থা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সহযোগিতার আরও বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে।

জানা গেছে, সরকার অন্যান্য দেশ থেকে যে দামে গম আমদানি করে, আমেরিকা থেকে আনতে প্রতি টনে ২৫-৩০ মার্কিন ডলার বাড়তি খরচ করতে হবে। আরও জানা যায়, সরকার রাশিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে গম আমদানি করত। কিন্তু বাংলাদেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে পাল্টা শুল্ক হিসেবে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় তৈরি পোশাক। এ শিল্পের রপ্তানি যাতে বাধার মুখে না পড়ে এবং পাল্টা শুল্ক কমানো যায় সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দেওয়ার চিন্তা করছে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আমেরিকায় শুল্ক নিয়ে বৈঠক (৯-১১ জুলাই ধারাবাহিক বৈঠক হয় যুক্তরাষ্ট্রে) শেষে ঢাকায় ফিরেই ধারাবাহিকভাবে দেশের ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নন-ডিসক্লোজার চুক্তি করে আসার কারণে দেশটি বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক কমানোর শর্ত হিসেবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে, তা সংশ্লিষ্টরা খোলাসা করছেন না। এমনকি যাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজছেন, তাদেরও ঠিকভাবে শর্ত সম্পর্কে জানানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর সঙ্গে গত কয়েক দিনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি শেভরন, এক্সিলারেট এনার্জি এবং ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটস, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল ও ইউএস কটন অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। গতকালও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে ১১টি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। দেশের সয়াবিন ও পাম ওয়েল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকলেও সেটা বাতিল করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত ২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারিভাবে গম আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৬৬ হাজার টন। আর বেসরকারিভাবে গম আমদানি হয়েছে ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার টন। জানা যায়, বেসরকারি আমদানিকারকরা সাধারণত রাশিয়া, ইউক্রেন, বুলগেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গম আমদানি করে থাকে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে ভারত থেকে গম আমদানি হলেও যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তার কারণে প্রতিবেশী দেশটি তাদের রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত