সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা আসুক

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ১২:৪৬ এএম

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে যে পে-কমিশন হলো, তার সঙ্গে কি সরকারি চাকরি অধ্যাদেশের কোনো সম্পর্ক রয়েছে? অথবা এমনভাবে কি কেউ ভাবতে পারেন, যাতে সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলনের নামে নিয়মিত কাজে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে না পারেন এর জন্য সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ একটি খড়্গ হিসেবে থাকল! যদি কেউ এমনটি ভেবেই বসেন, তাহলে কি তাকে দোষ দেওয়া যায়? আবার সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, বিষয়টি নিতান্তই যৌক্তিক মনে হবে। কারণ সরকার চাইবেই, তার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক। প্রশাসনে শৃঙ্খলা থাকুক। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে মাত্র ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য যে বেতন কাঠামো নির্ধারিত হচ্ছে, পরবর্তী সময়ে বাজারের চিত্র কী হবে? পণ্যমূল্যের উল্লম্ফন বন্ধ করার কোনো ব্যবস্থা কি সরকার রেখেছে? নাকি বরাবরের মতো এর দায় পড়বে দেশবাসীর ওপর!

অন্যদিকে, নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী আন্দোলনে গেলে, অর্থাৎ নিজে নিয়ম লঙ্ঘন করে একজন সরকারি কর্মচারী অপর সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দিলে বা তাকে তার কাজ থেকে বিরত রাখলে, তাকে বাধ্যতামূলক অবসরসহ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে। অনেকের মতে, এটি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার খর্ব করবে এবং কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু সরকারের কথা হচ্ছে, ‘এই অধ্যাদেশ সরকারি কর্মচারীদের কাজের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।’

নতুন এই অধ্যাদেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন বা কর্মবিরতিকে ‘সরকারি কর্মে বিঘœ সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আইনজীবীদের মতে, অধ্যাদেশে শব্দ ‘আন্দোলন’ সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও ‘কর্মে বাধা প্রদান’ বা ‘কর্তব্যে বিরতি’ সংক্রান্ত যে ধারা সংযোজন করা হয়েছে, তাতে আন্দোলনকেই মূলত বোঝানো হয়েছে। যুক্ত হয়েছে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরের দণ্ড। তবে আগের অধ্যাদেশের মতো, এখানেও রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়নি। মোট কথা, এখন থেকে কোনো সরকারি কর্মচারী আন্দোলনে অংশ নিলে বা অন্য কর্মচারীকে কাজে বাধা দিলে, তাকে বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে। এরই মধ্যে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এতে কর্মচারীদের অধিকার সংকুচিত হবে। আবার কেউ বলছেন, সরকারি সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এটি জরুরি পদক্ষেপ। একটি বিষয় ঠিক যে, সরকারি কর্মচারীরা কোনোভাবেই কাজ ফেলে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত হতে পারেন না। এ ধরনের চাকরি সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হতে হবে। তাদের অবশ্যই জবাবদিহি এবং শৃঙ্খলার আওতায় আসতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত