অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির তোড়জোড়

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ০৮:৫৫ এএম

সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চলতি বছরের মার্চে ঢাকার সরকারি সাত কলেজ নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বা ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের কথা জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এটি এখনো অনুমোদন পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত আইনের খসড়া তৈরির কাজও শুরু হয়নি। নিয়োগ করা হয়নি উপাচার্য। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব না থাকলেও প্রস্তাবিত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়ায় বেশ তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে। আগামী ২২ ও ২৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্র্বর্তী প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।

ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়াার্দী কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অনলাইনে ভর্তির আবেদন নেওয়া হবে। বিশ^বিদ্যালয়টির জন্য প্রস্তাবিত আইনের খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর তা উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। এরপর উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। তবে অনুমোদনের আগেই ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণায় সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা এখন আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেই। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিও প্রতিষ্ঠা পায়নি। ফলে প্রথমবর্ষে যারা ভর্তি হবেন, তারা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি হবেন? সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করা ছাড়া আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তি কীভাবে সম্পন্ন হবে? গত ৯ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেয়। এ-সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ৭ জুলাইয়ের স্মারকের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের ভর্তির কার্যক্রম প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হবে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি কমিটির সভাপতি, সাত কলেজের প্রশাসক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২২ আগস্ট বিকেলে ও ২৩ আগস্ট সকালে দুই শিফটে ভর্তি পরীক্ষা হবে। ভর্তি পরীক্ষার জন্য গঠিত কমিটি আগামীকাল (আজ) আরেকটি বৈঠক করবে। আশা করছি, এরপরেই ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।’

গত ৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাত কলেজের ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করেন ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী। পরে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া থেকে সরে দাঁড়ালে সংকট তৈরি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সাত কলেজে মোট আসন ২৩ হাজার ৫৩৮টি।

আবেদনের পাঁচ মাস পরও ভর্তি পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) এবং কৃষি গুচ্ছসহ সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আরও তিন থেকে ছয় মাস আগে শেষ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পাঠদান চলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠন করা এই সাত কলেজের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী আবেদনও করছিল। কিন্তু মাঝপথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সরে যাওয়ায় সমস্যাটি তৈরি হয়েছে। ফলে আমাদের ভর্তির সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনই নেই; শিক্ষার্থীরা কীভাবে ভর্তি হবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যায় না। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় নতুন কাঠামোর অধীনে চলবে। তবে এই ব্যাচে (২৪-২৫) সনাতন পদ্ধতিতে ভর্তি করা হবে। এখনো ভর্তি বিজ্ঞপ্তি হয়নি। ভর্তির তারিখ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অনুমোদন পেতে একটি রূপরেখা তৈরি করেছি। সেটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। শিগগিরই তারা লিখিত অনুমোদন দেবে। আমরা একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি।’ শিক্ষার মানোন্নয়ন, সময়োপযোগী শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়নসহ নানা বিষয় সামনে রেখে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কলেজগুলো আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত