স্পিড, স্ট্যামিনা, স্কিল—স্টোকসই এখন ইংল্যান্ডের সেরা পেসার

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ০৮:৫৩ পিএম

হেডিংলি থেকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড, ব্রিস্টল থেকে কেপটাউন—গত আট বছরে বেন স্টোকসের ক্যারিয়ারে জমেছে অনেক গল্প। ব্যাটের ঝলক, ক্যাচের উড়াল, আর এখন নতুন করে বল হাতে পুনর্জন্মের অধ্যায়। চতুর্থ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে, পুরনো ভঙ্গিমায় নয়, নতুন এক চেহারায় মাঠ ছেড়েছেন স্টোকস—কাঁধে নেতৃত্বের ভার, হাতে ম্যাচ বল। ২০১৭ সালের পর টেস্ট ইনিংসে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট। আট বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি, আর আট মাসের পুনর্বাসনের স্বীকৃতি।

যখন ডিসেম্বরের এক সকালে নিউজিল্যান্ডে ফের হ্যামস্ট্রিং ছিঁড়ল, তখন এমন দৃশ্যের কথা ভাবাটাই কঠিন ছিল। কিন্তু স্টোকস নিজেকে কখনোই গুটিয়ে রাখেননি। ‘আরও একটা চ্যালেঞ্জ, লেট’স গো!’ সামাজিক মাধ্যমে এমনটা বলেই যেন আবার যুদ্ধে নেমেছিলেন।

ঘরে বসেই স্কোয়াট, তারপর জিমে ঘাম ঝরানো। ঠান্ডা সকালে চেস্টার লি স্ট্রিটে একা দৌড়, সতীর্থরা যখন ক্যামেরার সামনে। আর সেই সব নিঃশব্দ প্রস্তুতির ফল, ম্যানচেস্টারে এসে চোখে পড়ল বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটভক্তের।

স্টোকসের আগের পাঁচ উইকেট ছিল ৭৬ টেস্ট আগে। টেস্ট ইতিহাসে এত লম্বা ব্যবধানে কেউ এমন ‘ফাইভ-ফর’ ফেরেননি। এই সিরিজেই ১৬ উইকেট—উভয় দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাকি তিন ইনিংস। তারচেয়েও বড় কথা, ১২৯ ওভার বল করেছেন, যা স্টোকসের ক্যারিয়ারে এক সিরিজে সর্বোচ্চ।

তবু শুধু পরিসংখ্যানে বোঝা যাবে না, এই গ্রীষ্মে স্টোকস আসলে কী করে দেখালেন। গড় গতি ৮৪.২ মাইল (১৩৫ কিমি) প্রতি ঘণ্টা—২০১৯ সালের পর সেরা। বলের ৩০ শতাংশ ফেলেছেন পারফেক্ট লাইন-লেংথে।

তবে গতি আর নিখুঁততা ছাড়িয়ে গেছে অনুভব। বোলিং অ্যাকশনে সেই পুরনো তরঙ্গ, গতির ঝলক, ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করার ক্ষিপ্রতা—সব ফিরে এসেছে। তিনি বল করতে এলে স্টেডিয়ামে যেন বাতাস ঘনিয়ে ওঠে। সে পুরনো বন্ধু জো রুটই হোন বা নবাগত ব্যাটার, কেউ বল কেড়ে নিতে পারেন না স্টোকসের হাত থেকে।

লর্ডসে টানা ১০ ওভার, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মধ্যাহ্নভোজের আগে-পরে আরেক টানা ১০—যেন বলছে, স্টোকসের সেই 'ম্যারাথন স্পেল' আবার ফিরে এসেছে। আর ফিরেছে উইকেট—গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে।

আকাশ দীপকে ক্লিন বোল্ড, বুমরাহকে তুলে নিয়ে টানটান ম্যাচে নাটকীয়তা। হেডিংলিতে করুণ ও শার্দুল, ম্যানচেস্টারে গিল, সুদর্শন আর সুন্দর—প্রতিপক্ষের হৃদপিণ্ডে আঘাত করেছেন স্টোকস। ছয় ইনিংসে কোনো ফিফটি নেই, কিন্তু স্টোকসই যেন সিরিজসেরা। বল হাতে, শরীরজুড়ে সাহস আর নেতৃত্ব।

তিন মাসের ছুটি অপেক্ষায়, তারপর অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ, যেখানে ১২ বছর আগে টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এই ইংলিশ বীর। তবে এখনকার স্টোকস আর আগের মতো উগ্র নন—তিনি ঠান্ডা, পরিণত। যে স্টোকসকে একসময় হাডিনের মুখোমুখি হতে টানতে হতো, সেই তিনিই এখন সতীর্থকে টেনে ধরে শান্ত করেন। নেতৃত্বে যেমন কাণ্ডারির ধৈর্য, বোলিংয়ে তেমন আগুন।

এখন কেউ বলুক না বলুক, পরিসংখ্যান যা-ই বলুক, বেন স্টোকস এখন আর চতুর্থ পেসার নন—তিনি ইংল্যান্ডের প্রথম নাম, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত