রান তাড়ায় ঘাটতি রয়েই গেল

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ০৯:২৬ পিএম

টানা দুই টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পর টানা দুই সিরিজে জয়। আরব আমিরাত এবং পাকিস্তানের কাছে সিরিজ হারের পর শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়, আগামী বছরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর লিটন কুমার দাসের দলনেতা হিসেবে স্কোরকার্ড আপাতত ২-২। ম্যাচের হিসাবে ১২ ম্যাচের ৫টিতে জয়, ৭টিতে হার।

পরবর্তী মিশন এশিয়া কাপ, যেখানে সম্ভাব্য ভেন্যু দুবাই এবং আবুধাবি। মুখোমুখি হতে হবে এমন দুটো দলের বিপক্ষে, যাদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই এশিয়া কাপ খেলতে যাবে বাংলাদেশ। তবে মিরপুরের কৌশল খুব সম্ভবত কাজে লাগবে না মরূদ্যানে।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে হারাবার পর মাইক হেসন যখন উইকেট নিয়ে বেশ সমালোচনায় মুখর, একই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন ইমনের বক্তব্য ছিল, ‘আমরা ১১০ রান করেছি ১৬ ওভারে। আমরা যদি ২০ ওভারও খেলতাম, ১৬০ রান করতে পারতাম। হতে পারে ওরা মানিয়ে নিতে পারেনি, আমরা মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেছি। দুটো উইকেট আগেভাগে পড়তেই পারে, কিন্তু বাকিরা সেটা সামলে নিয়েছে।’

সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ডাগআউটে বসে ইমন দেখেছেন, তার সতীর্থরা পারেননি ১৭৯ রান তাড়া করতে। শেখ মেহেদি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ জিতিয়েছেন, মিরপুরেও দারুণ পারফরম করেছেন। কিন্তু সিরিজের শেষ ম্যাচে, উইকেট যেদিন একটু ভালো ছিল আর পাকিস্তানও গোড়ায় নামিয়েছিল সাহিবজাদা ফারহানের মতো ‘পাওয়ার হিটার’কে, তার সামনে খুঁজে পাওয়া যায়নি মেহেদিকে। ৪ ওভারে কোনো উইকেট না নিয়ে ৩৬ রান দিয়েছিলেন ‘পাওয়ার প্লে স্পেশালিস্ট’, শারজায় আরব আমিরাতের সঙ্গে তো ৪ ওভারে দিয়েছিলেন ৫৫ রান।

কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে লিটন যেমন বলেছিলেন যে এই ম্যাচে ‘আর কেউ খেলুক বা না খেলুক মেহেদি খেলবে’। কিন্তু কলম্বো বা মিরপুরের উইকেট তো লাগেজে করে দুবাই বা আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়ার উপায় নেই, তাই মেহেদির বিকল্প একজন অলরাউন্ডার খুঁজে বের করাটা বড় চ্যালেঞ্জ লিটনের। যে জায়গাটায় সাইফউদ্দিন হতে পারেন একজন বিকল্প। ব্যাটিংয়ের হাতটাও মেহেদির চেয়ে ভালো, মিডিয়াম পেসে কার্যকর। লিটনও আস্থা রাখছেন তার ওপর।

বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, সে (চাহিদা) ফুলফিল করেছে। তার জন্য সহজ না, এতদিন পর খেলায় ফেরা...এখানে টানা দুই ম্যাচ খেলেনি। বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও ভালো করেছে। সে যে সামর্থ্যরে খেলোয়াড়, সেরাটা দিতে পারলে বাংলাদেশ দল অনেক উপকৃত হবে।’

ইনিংসের গোড়াপত্তনে তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমনের জুটিটাই ভরসা জাগাচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে এদের কেউ একজন অল্পতেই আউট হয়ে যাচ্ছেন, তবে অন্যজন টিকে যাচ্ছেন। ঢাকায় প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তামিম ১ রানে আউট হলেও ইমন করেছেন ৫৬, কলম্বোতে শেষ টি-টোয়েন্টিতে ইমন ০ রানে আউট হলেও তামিম অপরাজিত ছিলেন ৭৩ রানে। দুজনেই ছক্কা মারতে পারদর্শী। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তামিমের ২৯ ম্যাচে ৩২ ছক্কা, ইমনের ১৭ ম্যাচে ২৫।

বেঞ্চস্ট্রেন্থ বাজিয়ে দেখার লক্ষ্যে দুটো ম্যাচে নাঈম শেখকে আনা হয়েছে সূচনায়। খেলার ধরন বদলে ঘরোয়াতে সফল হলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচে সেই ৩ বছর আগের ‘ভীতু’ নাঈম, যে ব্যাটসম্যান ফ্রি হিটেও সিঙ্গেলের বেশি নিতে পারেন না। লিটন ব্যাট হাতে শ্রীলঙ্কায় সফল, ঢাকায় ব্যর্থ। ৩ ম্যাচে একটিতেও দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। মাঝের ওভারগুলোতে তাওহীদ হৃদয়ের ইনিংসগুলো বড় হচ্ছে না। ফিনিশারের ভূমিকায় থাকা জাকের আলী অনিক কিংবা শামীম হোসেন পাটোয়ারীকে ২২ গজে চলে আসতে হচ্ছে একটু আগেই।

বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ দল নিজস্ব ব্র্যান্ডের একটা ক্রিকেট খেলতে চাচ্ছে, একটা নিজস্ব কৌশল দাঁড় করাতে চাচ্ছে।’

সেই ছকে বোলিংটা ভারসাম্যপূর্ণ এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ। রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদদের সঙ্গে শেখ মেহেদিকে নিয়ে স্পিন আক্রমণ আর তাসকিন, মোস্তাফিজ, শরিফুল, তানজিম সাকিবদের নিয়ে পেস। পার্ট-টাইমার হিসেবে শামীম আর পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে সাইফউদ্দিন। ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ ছাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে গোটা সিরিজেই, তাসকিন এবং নাসুম দুজনেই ছাড়েন সহজ ক্যাচ।

বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে হয়তো এই সব ঘাটতিই দূর করা আর দক্ষতায় ধার দেওয়া সম্ভব। তবে বড় রান তাড়া করার সামর্থ্যরে ঘাটতি যে রয়ে গেল, সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠল আরও একবার। ১১০ বা ১৩৩ রান তাড়া করে সহজে জিতলেও লক্ষ্য যখন ১৭৯, তখনই যে বেরিয়ে এলো সত্যিকারের চেহারাটা!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত