পায়রা বন্দরে টার্মিনাল নির্মাণে ১৬২ কোটি টাকা অনুমোদন

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৫, ০১:১৬ এএম

পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণে (দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পের আওতায়) ১৬২ কোটি ২ লাখ ১১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ‘পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় ‘প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক এবং সংশ্লিষ্ট পরিসেবাসহ দুটি শিপ টু শোর (এসটিএস)/কুয়ে গ্যান্টি ক্রেন সরবরাহ এবং স্থাপন’ এর জন্য বিভিন্ন কেনাকাটার জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে চার প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। তার মধ্যে ৩টি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশ করা রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এইচপি ও এনজে চায়না প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ১৬২ কোটি ২ লাখ ১১ হাজার ৫৬৮ টাকা।

অন্যদিকে বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ‘নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার এবং বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় একটি প্যাকেজের জন্য ২৮৮ কোটি ৮ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮৬ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স, এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এ ছাড়া বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘এক্সপান্ডেড ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’ এর আওতায় প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ৭ প্রতিষ্ঠানের কাছে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল ইস্যু করা হলে ৫টি প্রতিষ্ঠান কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করে। ৫টি প্রস্তাব কারিগরিভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। প্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে পিইসি কর্তৃক আলোচনার মাধ্যমে সুপারিশ করা সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারী দরদাতা প্রতিষ্ঠান আইডব্লিএম, দেব কন এবং জিকেডব্লিউ-কে নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৭৫ কোটি ৪১ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৭ টাকা। এ ছাড়া এই ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি পঞ্চবটি থেকে মুক্তাপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের পরামর্শক ব্যয় ১৪ কোটি ৩৭ লাখ ১৩ হাজার ৮২৮ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পে ডিজাইন, রিভিউ এবং কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কাজের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যৌথভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার কুনহুয়া ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনসালটিং কোম্পানি লিমিটেড এবং জিইএম কনসালট্যান্ট বিডি ও ভারনাকুলার কনসালট্যান্ট লিমিটেড বিডিকে ২৮ কোটি ৯৮ লাখ ৩২ হাজার ৪০৮ টাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়।

চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হয়। কিন্তু নির্মাণকাজ সমাপ্ত না হওয়ায় প্রকল্পে নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধির জন্য ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৪ কোটি ৩৭ লাখ ১৩ হাজার ৮২৮ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবে নিয়ে আসে সেতু বিভাগ। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন দিয়েছে। এতে সংশোধিত চুক্তিমূল্য বেড়ে হয়েছে ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ২৩৭ টাকা।

৯৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আসবে দুই কার্গো এলএনজি : দেশের জ¦ালানি চাহিদে মেটাতে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে এক কার্গো সিঙ্গাপুর থেকে এবং এক কার্গো দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৯৮৯ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার ৩০৫ টাকা। ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮’ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন চায় জ্বালানি ও খানিজসম্পদ বিভাগ। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।

জানা গেছে, পেট্রোবাংলা থেকে এ এক কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (এমসিপিএ) স্বাক্ষরকারী চুক্তিবদ্ধ ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হলে ৮টি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। দাখিল করা ৮টি প্রস্তাবই কারিগরি ও আর্থিকভাবে রেসপনসিভ হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান গানভর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুর-এর কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১১ দশমিক ৯৭ মার্কিন ডলার হিসেবে এক কার্গো বা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় হবে ৫০২ কোটি ৯৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৮ টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত