পবিত্র কাবা তওয়াফ করার সময় গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষের অবসানের আহ্বান জানিয়ে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে এক মিসরীয় হজযাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি কর্র্তৃপক্ষ। মসজিদে হারামে পবিত্র কাবার কাছে তিনি যখন গাজার শিশুদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে উচ্চৈঃস্বরে বলছিলেন, ‘হে মুসলমানরা, গাজার শিশুরা মারা যাচ্ছে’, তখনই নিরাপত্তা বাহিনী তাকে আটক করে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, তিনি আরববিশ্বে ঐতিহাসিকভাবে ব্যবহৃত একটি আর্তনাদ ‘ওয়া ইসলামাহ!’ বলে চিৎকার করছেন, যার মাধ্যমে মুসলমানদের জাগ্রত করে গাজার তীব্র সংকটের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
সৌদি আরবে হজ ও ওমরাহর সময় রাজনৈতিক বক্তব্য, সেøাগান ও জাতীয় প্রতীক প্রদর্শন নিষিদ্ধ। কর্মকর্তারা দাবি করেন, এসব বিধিনিষেধের মাধ্যমে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পবিত্রতা বজায় রাখা হয়। তবে সমালোচকরা বলছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা মূলত ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির কণ্ঠরোধে ব্যবহার করা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় স্থানে মতপ্রকাশের ওপর কঠোরতা বাড়িয়েছে সৌদি সরকার। ২০২৩ সালেও এমন এক ঘটনায় এক ব্রিটিশ হজযাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি ফিলিস্তিনি পতাকার রঙে সাজানো তসবিহ হাতে ও সাদা কেফিয়াহ (বড় চৌকো রুমাল) পরে ছিলেন।
মিসরীয় এই হজযাত্রীর আবেদন এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজাবাসী ইসরায়েলি অবরোধে বিধ্বস্ত। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৫৯ হাজার ৭০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার মানুষ।
গাজার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ১ লাখেরও বেশি শিশু চরম অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে, যার মধ্যে ৪০ হাজার নবজাতক। ইতিমধ্যে অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮৩ জনই শিশু। ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করছে, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্য সরবরাহ বিপজ্জনকভাবে কমে এসেছে। ফলে হাজার হাজার শিশুর জীবন এখন হুমকির মুখে।
