অবিশ্বাস্য

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৩৬ এএম

পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশের বাসিন্দা ২৭ জন! 

‘সিল্যান্ড’ যেন পৃথিবীর বুকে এক বিস্ময়। স্বাধীনতার আকর্ষণ মানুষকে কতটা আগ্রাসী করে তুলতে পারে, তাই যেন ইতিহাসের পরতে পরতে জানিয়ে দিয়ে যায় সিল্যান্ড। ১৯৬৭ সালের কথা। তখন ইংল্যান্ডের সেনাবাহিনীর মেজর প্যাডি রয় বেটস এই সমুদ্র উপকূলে এসে বাস করতে শুরু করেন। আর এই দিগন্তপ্রসারী সমুদ্রের বুকে তিনি কোথায় যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন। এরপর আর ইংল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ তার সহ্য হয়নি। স্বাধীনতা দিবসের দিন একটি দেশের প্রেসিডেন্ট, নাগরিককে উদ্দেশ করে জানালেন সেদিন তিনি প্রত্যেকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটাবেন। কিন্তু যে দেশের জনসংখ্যা মাত্র ২৭ জন, সেখানে এমনটা ঘটতেই পারে। অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই? ঠিক এমনটাই হয়েছে, ইংল্যান্ডের কাছে ‘সিল্যান্ডে’। একটি মাত্র পরিবারকে নিয়েই গড়ে উঠেছে একটি সার্বভৌম দেশ। আর সেই অণুরাষ্ট্রে আছেন একজন রাজা! এখনো অবধি এটিকেই পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম  দেশ হিসেবে ধরা হয়। ইংল্যান্ডের উত্তর সাগরে এই রাষ্ট্রটির অবস্থান। দেশটির একটি রাজধানীও রয়েছে। দেশটির রাজধানীর নাম ঐগ ঋড়ৎঃ জড়ঁমযুং, দেশটি সাগরের ওপর ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। ক্ষুদ্রতম দেশটির মোট আয়তন ৫৫০ বর্গমিটার।  তারা নিজেদের একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করলেও, বিশে^র কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র একে রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা দেয়নি। দেশটিতে একটিমাত্র ঘর চোখে পড়বে এবং সেটিই দেশের রাজপ্রাসাদ। তার ওপর দেশটির পতাকা উড়তে দেখা যাবে। ১৯৯৩ সাল থেকে এটিকেই বিশে^র ক্ষুদ্রতম সার্বভৌম দেশ হিসেবে মনে করা হয়। সেই সঙ্গে এ দেশের জন্য আছে নিজস্ব পাসপোর্ট এবং প্রশাসনিক নিয়ম। আর আছে দিগন্ত বিস্তৃত নীল সমুদ্র প্রান্তর। বাস্তবে ঠিক কোনো মানুষ নয়, সিল্যান্ডকে শাসন করছে একটি ধারণা। যে ধারণা রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে মুক্তির হদিস দেয়। যে ধারণা এক অসীম স্বাধীনতার গল্প শোনায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত