পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের শতাধিক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। গত বৃহস্পতিবার আদালতের এক আদেশে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালে সেনা স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত দাঙ্গার অভিযোগে তাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ৫৮ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই ৫৮ জনের মধ্যে সংসদ সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ নেতারাও রয়েছেন। বাকি ব্যক্তিদের এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ-পিটিআইর জাতীয় ও সিনেটের নেতা ওমর আয়ুব খান এবং শিবলি ফারাজ রয়েছেন। রায়ে বলা হয়েছে, প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাদের মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতি, ভূমি জালিয়াতি ও সরকারি গোপন নথি ফাঁস করার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি তিনি। আলাদাভাবে একই দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত অভিযোগেও বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। সরকারের অভিযোগ, তিনি এবং তার দলীয় নেতারা ২০২৩ সালের ৯ মে’র বিক্ষোভ উসকে দিয়েছিলেন। এই সময় বিক্ষোভকারীরা রাওয়ালপি-িতে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরসহ সামরিক ও সরকারি ভবনে হামলা চালায়। তবে ইমরান খান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার দলকে নির্মূল করার জন্য সেনাবাহিনী-সমর্থিত অভিযানের অংশ।
বৃহস্পতিবার আদালতের দেওয়া রায় ইমরান খানের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে চলা মামলার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে না। তবে এটি চলতি মাসে পিটিআই নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া
তৃতীয় গণ-সাজা। দলটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন সংসদ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা তাদের সংসদীয় আসন হারাবেন। এতে পিটিআইয়ের সাংবিধানিক শক্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে প্রমাণের অভাবে ৭৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে বলেও আদালত জানিয়েছে। পিটিআই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানিয়েছে।
