যশোরের অভয়নগরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শাহনেওয়াজ কবীর টিপু নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দুই দফায় ৪ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি ও নওয়াপাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি মফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী আসমা খাতুন। প্রথমে তিনি সেনা ক্যাম্পে এবং গতকাল শনিবার অভয়নগর থানায় এই অভিযোগ করেন।
অভয়নগর থানার ওসি আব্দুল আলিম জানান, যশোরের অভয়নগর উপজেলার চলশিয়া গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুর স্ত্রী আসমা খাতুন শনিবার সকালে থানায় অভিযোগ করেছেন যে, তার স্বামীকে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর ও ১৮ সেপ্টেম্বর আটকে রেখে ৪ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছে। অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং কার্যক্রম চলছে।
ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপু নওয়াপাড়ার জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী।
অভিযোগকারী আসমা খাতুন জানান, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সকালে ১০টায় শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে সুকৌশলে নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনির অফিসে ডেকে নিয়ে যায় সৈকত হোসেন হিরা নামের এক ব্যক্তি। এ সময় আসাদুজ্জামান জনি টিপুকে মারধর করে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই কোটি টাকা দাবি করে। এরপর টিপুর স্ত্রী সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনির নিজ প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে ২ কোটি টাকা রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (জঞএঝ) করেন। টাকা পেয়ে ওইদিন ব্যবসায়ী টিপুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ব্যবসায়ী টিপু গ্রামের বাড়ি চলিশিয়া থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেট পার হলে সৈকত হোসেন হিরা তার গতিরোধ করেন। এরপর বেলা ৩টা পর্যন্ত টিপুর মুঠোফোনটা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানতে পারেন টিপুকে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনির কনা ইকো পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর টিপুর স্ত্রী সেখানে গেলে আসাদুজ্জামান জনি, সম্রাট হোসেন ও নওয়াপাড়া প্রেস ক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে টিপুকে মারধর করে। এরপর বুক অব্দি গর্ত খুঁড়ে বালু চাপা দিয়ে আরও ২ কোটি টাকা দাবি করে। এ সময় ব্যবসায়ী টিপু বাধ্য হয়ে তার ম্যানেজারকে ফোন করে টাকা দিতে বলেন। এরপর ম্যানেজার সাংবাদিক মফিজের অ্যাকাউন্টে পূবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ ও সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লাখ টাকা রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (জঞএঝ) করে। এ সময় মফিজ আরও ১ কোটি টাকার চেক আদায় করে। পাশাপাশি জনির নামে ক্রয়কৃত ৩টি ও দিলিপ সাহার নামে ক্রয়কৃত ৩টি ১০০ টাকার ফাঁকা স্টাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এরপর কাউকে কিছু বললে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়।
অভিযোগের বিষয় জানতে নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির (পদ স্থগিত) সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনির মুঠোফোনে কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।
নওয়াপাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিনের মুঠোফোনে কল দিয়ে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘সংগঠনবিরোধী কর্মকান্ডে জনির বিরুদ্ধে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সে এখন আমাদের কেউ না। ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আদায় সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা নেই। তার কর্মকা-ে আমাদের দল কোনো দায় নেবে না।’
