ভারতের মাটিতে স্বাগতিকদের বাগে পেয়েও হারাতে না পারা আর ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুরের কাছে হেরে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পথটা কঠিন হয়ে গেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের। বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দল, একাদশ নির্বাচন, খেলোয়াড় বদলে অদূরদর্শিতা, জয়ের সময়োপযোগী ছক কষতে না পারায় কাবরেরাকে নিয়ে শুরু হয়েছিল সমালোচনার ঝড়। ফুটবল ভক্ত, বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারাও প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে কোচের সমালোচনামুখর হয়েছিলেন। তারপরও স্প্যানিশ কোচের ওপর আস্থা রেখেছে বাফুফে। অক্টোবরে হংকংয়ের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের দুই ম্যাচে তিনিই থাকবেন বাংলাদেশের ডাগআউটে। তবে কাবরেরাসহ দলের অন্যান্য কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের ওপর কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাফুফে। সিনিয়র দল থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দল দেখভালের জন্য গড়া হয়েছে উপ কমিটি। এমনই এক বিশেষায়িত কমিটির সদস্য বাফুফের নির্বাহী সদস্য ছাঈদ হাছান কানন সোমবার সংবাদ মাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে কাবরেরাসহ জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের বেশ কিছু ব্যর্থতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। মোটা দাগে বোঝাই গেছে কাবরেরা গংয়ের ওপর আপাতত আস্থা রাখলেও তার কাজে কর্মে মোটেই খুশি নয় বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটির সদস্যরা।
সম্প্রতি এক সভায় আলাদা আলাদা দলের ওপর বাফুফের নজরদারি বাড়াতে গঠিত হয়েছে দুটি বিশেষায়িত কমিটি। অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের জন্য অনুশীলন শুরু করা দলটির দেখভাল করবে তিন সদস্যের কমিটি। যেখানে কানন ছাড়াও আছেন নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন ও ন্যাশনাল টিমস কমিটির অন্যতম সদস্য ও ফর্টিস এফসির সত্ত্বাধিকারী শাহদাত হোসেন। সোমবার বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির ফুটবল প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে দল যখন মাঠে ঘাম ঝড়াচ্ছে, তখন এক প্রান্তে দেখা গেছে কানন ও ইকবালকে।
উপকমিটির কাজ কি হবে জানানোর দায়িত্ব ছিল কাননের। এ নিয়ে কথা বলত্ব গিয়ে কোচের পারফরম্যান্সে বাফুফে যে নাখোশ সেটাই স্পষ্ট করেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই গোলকিপার, 'ন্যাশনাল টিমের আমরা দুটো ম্যাচ দেখেছি, সিঙ্গাপুর আর ভারতের বিপক্ষে। ম্যাচ দেখার পর আমরা বুঝলাম কোচিং স্টাফ আর যারা টিম ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে দায়িত্বে ছিল তাদের ভেতর থেকে অনেক কিছু পরিলক্ষিত হয়েছে। ওই ম্যাচ দুটোর পরে ফেডারেশনে আমরা সভায় বসেছিলাম। বসার পর আমাদের মনে হলো আমরা ফেডারেশনের পক্ষ থেকে যদি সব খেলার সঙ্গে থাকি, অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-২০, অনূর্ধ্ব-২৩ এবং সিনিয়র জাতীয় দলের সঙ্গে থাকি তাহলে খুব কাছ থেকে আমরা পর্যবেক্ষণ করতে পারবো। কোচ ও ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবো। আমরা ভেবেছি আলোচনা যত হবে তত উন্নতি আসবে। আমরা যেটা আগেই দেখেছি, দুইটা ম্যাচে টিমে অনেক সমস্যা হয়েছে। যার জন্য আমরা মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেই যে উপকমিটি করা হবে এবং আমরা নির্বাহী কমিটির সদস্যরা দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবো। ম্যানেজমেন্টের কোনো সমস্যা আছে কি না, থাকার বা ফ্যাসিলিটিজের কোনো সমস্যা আছে কি না, কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব আছে কি না। এগুলো সব খুঁজে বের করার জন্য, ওদের আসলে সাহায্য করার জন্য আমাদের উপকমিটি করে দেওয়া হয়েছে।'
ভারত ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ম্যাচে কী কী সমস্যা চোখে পড়েছে জানতে চাইলে কানন বলেন, 'আমরা সিঙ্গাপুর ম্যাচে সমস্যা দেখলাম। প্লেয়ার চেঞ্জিংয়ে চার মিনিট দেরি হয়েছে আমাদের। ওই সময়টায় টিম খুব পিকে খেলছিলো, দলের টেম্পোও তখন ভালো ছিল। হঠাৎ খেলোয়াড় বদলের ওই দেরিতে কিন্তু আমাদের টেম্পোটা স্লো হয়ে গিয়েছিলো। ওই সময় কিন্তু আমরা প্রেশারে ছিলাম। আমাদের জেতার সম্ভাবনা ছিলো, গোল করার সম্ভাবনা ছিলো। সেই ক্ষেত্রে আমরা ম্যানেজমেন্টের বিষয়গুলো খুঁজে বের করেছি এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি।
'তারপর আমরা দেখেছি, টিম যখন হোটেল থেকে আসে তখন আমাদের হেড কোচ (কাবরেরা) নিজে দেরিতে এসেছেন। সেই সঙ্গে মাঠের খেলোয়াড় বদল নিয়েও আমরা ফলোআপ করেছি। পর পর চারটা খেলোয়াড় এক সঙ্গে বদল করা আমার কাছে খারাপ লেগেছে একজন প্রাক্তন খেলোয়াড় এবং ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য হিসেবে। আমি একজন কোচ, আমি জানি যে একসঙ্গে চারদিন বদল করা ঠিক হয়নি। রাকিবকে হঠাৎ রাইটব্যাক খেলানো হলো, মোরসালিনকে খেলানো হলো অথচ জামালকে কেন খেলানো হলো না। এগুলো আমরা সবই দেখেছি। আল আমিনকে নামানোর পর রাকিব কেন রাইটব্যাক হয়ে গেল? ওই সময়টায় কিন্তু টেম্পো ছিল টিমের। আমাদের জেতার সুযোগ ছিল। জামাল ভুটান ম্যাচে সেটপিস থেকে হামজাকে দিয়ে গোল করিয়েছে। ওই সময় আমরা এগারোটা কর্নার পেয়েছি। জামাল যদি তখন নামতো, তাহলে সেটপিস থেকে একটা অন্তত গোল করার সুযোগ ছিল আমাদের।'
বিশেষায়িত কমিটিগুলোতে টেকনিক্যাল লোক রাখার ফলে দলের উন্নতি হবে দাবি করে কানন আরও বলেন, 'আমরা যেগুলো আগে দেখেছি, তিনটা-চারটা ম্যাচ ধারাবাহিকভাবে দেখার পরে এগুলো একসঙ্গে করে আমরা পরামর্শ দেই। একজন টেকনিক্যাল মানুষ হিসেবে আমরা বলেছি, আমরা যদি সাথে থাকি, কাছে থাকি তাহলে দলের উন্নতিতে সুবিধা হয়। অনেক সময় কোচ একা পড়ে যান। কোচ বলেছেন রাকিব যে রাইটব্যাক খেললো, উনি জানেনই না! তাহলে অন্যান্য যারা কোচিং স্টাফ ছিলেন তাদের অবস্থান কী! প্রশ্নবিদ্ধ। খেলোয়াড় বদলের সময় চার মিনিট দেরি হয়েছে, ওইসময় আমরা কিন্তু আগে কার্ড দিয়েছি, তাই আমাদের খেলোয়াড় আগে নামবে। কিন্তু ওদের খেলোয়াড় আগে নামলো কেন? এখানে মাঠে যারা ম্যানেজমেন্টের ছিলেন তাদের দায়িত্ব এটা। আমাদের খেলোয়াড় কেন আগে নামলো না, কেন দ্রুত নামলো না। এটা আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি।
এর পর অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিট আগে আমরা গোলটা খেলাম। তিন মিনিট যারা লাইনে থাকবে, তাদের আগে থেকে তথ্য দেওয়া প্রয়োজন ছিল। মাঠে অনেক গরম ছিল, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল মাঠে। তাদের বলা উচিত ছিল ৪০ মিনিট তোমরা দারুণ খেলেছো। প্রথমার্ধে তিন মিনিট অতিরিক্ত সময়, এর মধ্যে আমরা কোনো গোল খাবো না। ওই সময়টায় ডাগআউট থেকে ইনফরমেশন যাওয়া উচিত ছিল যে, তোমরা টায়ার্ড হয়ে গেছো, অনেক গরম। ড্র করে চলে আসো। তারপর আমরা পরের ৪৫ মিনিট নতুন এনার্জি নিয়ে নামবো। এইসব কারণগুলো কিন্তু আমি খুঁজে বের করেছি এবং এগুলো নিয়ে ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেছি। যার ফলেই এই উপকমিটি করে দায়িত্ব দেওয়া হয়। '
কাবরেরার এত এত ভুল ধরার পরও কেন তাকে কোচ হিসেবে রাখা হচ্ছে? এর জবাব দিতে গিয়ে কোচের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন কানন, 'এই উপ-কমিটি করে দেওয়ার পরে আমরা এখন বলবো। কোচের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিলো না আগে। এখন কমিটি তৈরি করে দেওয়ার পর আমরা ইনভলভ হয়েছি। কোচকে ধরে রাখা হবে না কি বিদায় করে দেওয়া হবে - সেই সিদ্ধান্ত ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির। আর এই কমিটির চেয়ারম্যান বাফুফের সম্মানিত সভাপতি তাবিথ আউয়াল সাহেব। উনার দায়িত্ব এটা, আমরা তো কমিটির সদস্য, আমাদের দায়িত্ব না এটা।'
এশিয়া কাপের প্রাথমিক স্কোয়াডে শান্ত, আছেন সোহানও
সিরিজে ৭১৮৪ রান সেঞ্চুরি ২১টি সিরাজ ছুলেন বুমরাকে
ফোনের ওয়ালপেপার সাহস যুগিয়েছে ব্রুকের ক্যাচ ফেলা সিরাজকে