অসাধারণ ইয়ামাল-গাভি, প্রথম গোল রাশফোর্ডের

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৪০ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়া সফরে বার্সেলোনা নিজেদের যে রূপ দেখিয়েছে তাতে যেকোনো প্রতিপক্ষেরই ম্যাচে নামার আগেই সতর্ক থাকার কথা। ছিল দেইগুও। কিন্তু নতুন নাম্বার টেন লামিন ইয়ামালের ঝলক, মারকাস রাশফোর্ডের প্রথম গোল আর গাভির জোড়ায় ঠিকই বিধ্বস্ত হতে হয়েছে স্বাগতিকদের। দেইগুকে ৫-০ গোলে হারিয়ে কোরিয়া সফর শেষ করেছে কাতালানরা।

১০ নম্বর জার্সি পেয়েই যেন লামিন ইয়ামাল এবার নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব সিরিয়াস। বার্সার হয়ে এই মৌসুমে বাজিমাত করতে চান তিনি। এ ম্যাচে বার্সা খেলেছে যেন কোনো দয়া-রহম নেই এমন এক দল হিসেবে। ইয়ামাল গাভির সঙ্গে মিলে প্রমাণ করেছেন, ওরা ‘ফ্রেন্ডলি’ ম্যাচকে বন্ধুত্ব্ হিসেবে দেখেন না। পুরো দল ছিল প্রথম মিনিট থেকেই আগ্রাসী।

একটি ট্যুরের শেষ ম্যাচে দুইটা পথ থাকে: জায়গা পাকা করতে মরিয়া হয়ে লড়াই করা, অথবা চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে ফিরে যাওয়া। লামিন ইয়ামাল এই দুই পথের কোনোটিতেই হাঁটেননি। তিনি এমন একটা শো উপহার দিয়েছেন ৪৫ মিনিটে, যা কোরিয়ার দর্শকদের মনে থাকবে দীর্ঘদিন।

ড্রিবল, অ্যাসিস্ট, দৌড় আর দুর্দান্ত কাটিয়ে যাওয়ার ঝলক – লামিন ইয়ামালের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স যেন পুরো ট্যুরের জন্য যথেষ্ট। সেইসাথে গাভিও ছিলেন দারুণ দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী – যেন হানসি ফ্লিকের ‘ভিটিনহা’। ম্যাচে গাভি দুই গোল করেছেন। ফ্লিকের লাইনআপে সবচেয়ে বড় চমক ছিল ড্রোর শুরুর একাদশে থাকা। এই অনূর্ধ্ব-১৯ ‘বি’ দলের খেলোয়াড়টি অনুশীলনে জার্মান কোচের মন জয় করে নিয়েছেন। আক্রমণভাগে অবশ্য পরিবর্তন হয়নি – আগের মতোই ছিল লামিন-লেভানডফস্কি-রাফিনহা ত্রয়ী।

এবং সেই আক্রমণভাগের নেতৃত্ব এখন নির্দ্বিধায় দিচ্ছেন রোকাফোন্দার ছেলে লামিন ইয়ামাল, যার ঝলমলে স্কিলে কোনো ঘাটতি নেই। ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষদের দাঁড় করিয়ে রেখে তিনি গাভিকে দিয়েছেন অসাধারণ অ্যাসিস্ট। সে নিজে তিনটি গোল করতে পারত, কিন্তু অতিরিক্ত নিঃস্বার্থ আচরণের কারণে রাফিনহা ও আরাউহো সেই সুযোগগুলো নষ্ট করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে নতুন দল নিয়ে মাঠে নামে বার্সা এবং ৯ নম্বরে ছিল রাশফোর্ড। তরুণ খেলোয়াড় টনি ফার্নান্দেজ চতুর্থ গোলটি করেন দানি ওলমোর দারুণ পাস থেকে। পরে বৃষ্টিস্নাত মাঠে এরিকের অ্যাসিস্টে নিজের প্রথম গোল করেন রাশফোর্ড। কোচেন গোলরক্ষক হিসেবে অভিষেক ঘটান, আর পাউ কুবারসি ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন, তবে তা আশঙ্কাজনক নয়। তবে পুরো ট্যুর শেষে বার্সেলোনা এবার স্বস্তি নিয়েই স্পেনে ফিরতে পারবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত