মানবতাবিরোধী অপরাধ

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৫৪ এএম

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ব্যাপক হত্যাকা-সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আরও দুই সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হলেন জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে পা হারানো শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ইমরান। আরেকজন সাক্ষী পারভীন। গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনালে তারা সাক্ষ্য দেন। মামলার অপর দুই আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। ইমরান এ মামলার দ্বিতীয় ও পারভীন তৃতীয় সাক্ষী।

এর আগে গত রবিবার সাক্ষ্য দেন গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে মুখম-ল বিকৃত হয়ে যাওয়া খোকন চন্দ্র বর্মণ। পরে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। গতকাল জবানবন্দিতে ইমরান বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে পরিদর্শনে যান শেখ হাসিনা। একপর্যায়ে শেখ হাসিনা ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা তিনি শুনেছেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাক্ষী ইমরান বলেন, গত বছরের ১৯ জুলাই রাজধানীর পুরানা পল্টনের বিজয়নগর পানির ট্যাংকি এলাকায় তিনি ছিলেন। এ সময় বাঁ হাঁটুর নিচে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পঙ্গু হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ২৬ অথবা ২৭ জুলাই সকাল ৯টা-১০টার দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। শেখ হাসিনা তার কাছে গেলে তিনি (ইমরান) শেখ হাসিনাকে ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করলে শেখ হাসিনা তাকে ‘আপা’ বলে ডাকতে বলেন। এ সময় শেখ হাসিনা তিনি (ইমরান) কোথায় পড়াশোনা করেন, হলে থাকেন কি না, কেন থাকেন না, সে বিষয়ে জানতে চান। ইমরান বলেন, ‘একপর্যায়ে শেখ হাসিনা বুঝতে পারেন, আমি আন্দোলনকারী। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, পুলিশ তোমাকে গুলি করেছে? আমি বলি, সরাসরি গুলি করেছে। পুলিশের পোশাকে কারা ছিল, সেটা আমি জানি না। এরপর হাসপাতালে তিনি আরও চার থেকে পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলেন।’ সাক্ষী ইমরান বলেন, “শেখ হাসিনা যখন চলে যাচ্ছিলেন, তখন হেল্পডেস্কের কাছে গিয়ে ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ অর্ডার  দিয়ে যান, যা আমি শুনতে পাই।” ইমরান বলেন, একপর্যায়ে তিনি দেখেন, তার পায়ে অস্ত্রোপচার যথাসময়ে হচ্ছে না। ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে পারছেন না। হাসপাতাল থেকে তার বাবা তাকে নিয়ে যেতে চাইলেও নিতে পারছিলেন না। তখন তিনি ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’-এর মানে বুঝতে পারেন। পরে তার পা কেটে ফেলতে হয় এবং তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। সাক্ষী ইমরান ঘটনার জন্য শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী  আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দায়ী করেন। এরপর তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। আদালত পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৬ আগস্ট দিন ধার্য করে।

প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই মামলায় পারভীন নামে একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি গণআন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় চোখে গুলিবিদ্ধ হন এবং তার সামনে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন। আগামীকাল বুধবার চতুর্থ ও পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হবে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত