ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় মো. মতিউর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মাথা ফাটানোর ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম (২৬) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করেছে ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশ।
এর আগে গত মঙ্গলবার আনুমানিক রাত ১০টার দিকে গৌরিপুর উপজেলা থেকে সিরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সিরাজের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার ধামদী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত হাবিল মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, পাওনা টাকা চাওয়ায় মতিউর রহমান ও তার ৪ ছেলেকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। আহত চার ছেলে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও মতিউর রহমান এখনও শঙ্কামুক্ত নন। তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।
চলতি বছরের ১২ এপ্রিল রাতে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার ধামদী গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছিল। ঘটনার দিন রাতেই ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন রমজান আলী। এতে দুই নম্বর আসামি ছিল সিরাজুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার সিরাজ স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির জড়িত ছিলেন। এলাকায় মাদক, অনলাইন জুয়াসহ নানা ধরনের অপকর্ম হত তার নেতৃত্বে। আর এসব অপকর্ম করা হত কিশোর গ্যাং চক্রের মাধ্যমে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, সিরাজুল ইসলাম এজাহার নামীয় আসামি হওয়ায় তাকে উক্ত মামলায় গ্রেপ্তার করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অন্য অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
