পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্কতা

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪২ এএম

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট এক ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসে হিরোশিমার ওপর। পৃথিবীবাসী প্রথমবারের মতো দেখে পারমাণবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞ। ভয়াবহতা দেখে হতভম্ব পারমাণবিক বোমার জনক ওপেনহাইমার বলে ওঠেন আমি হয়ে উঠেছি সাক্ষাৎ মৃত্যু, বিশ্ব ধ্বংসকারী। সে ঘটনার ৮০ বছর পর এসেও বিশ্ব আবারও একই আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুয়ি। হামলার ৮০ বছর পূর্তিতে গতকাল বুধবার জাপানের শহরটিতে সমবেত প্রার্থনার জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে, ৮০ বছর আগে ঠিক যে সময় হিরোশিমার মানুষের ওপর নেমে এসেছিল মৃত্যু পরোয়ানা, সে সময়কে স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সমবেত মানুষ। এরপর উপস্থিতদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মেয়র মাতসুয়ি। তিনি বলেন, বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ৯০ শতাংশই আছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। বিশ্বনেতাদের মধ্যে একটা বদ্ধমূল ধারণা দিনে দিনে গড়ে উঠেছে যে, নিজেদের দেশ রক্ষার জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান পরিস্থিতি হিরোশিমার মর্মান্তিক অতীতের শিক্ষাকে অগ্রাহ্যই শুধু করে না, বরং শান্তি গঠনের কাঠামোকেও অবহেলা করে।

‘লিটল বয়’ নামের ইউরেনিয়াম বোমা ফেলে পুরো শহরকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলাফল ছিল ৭৮ হাজার মানুষের তাৎক্ষণিক মৃত্যু এবং ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তায় পরবর্তী কয়েক মাসে আরও কয়েক লাখ লোকের প্রাণহানি হয়। হিরোশিমা ধ্বংসের তিন দিন পরই নাগাসাকি নামের আরেক শহরে পারমাণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। এর এক সপ্তাহ পর ১৫ আগস্ট যুদ্ধে পরাজয় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করে জাপান। এরপর পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ থেকে প্রাথমিকভাবে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা কাটান এক অভিশপ্ত জীবন। তাদের নাম দেওয়া হয়েছিল হিবাকুশা। সমাজে প্রচলিত ধারণা ছিল, হিবাকুশারা দেহে হাজারও ব্যাধি নিয়ে ঘুরে বেড়ান, আর তাদের বংশধররা হবে কলঙ্কিত। চলতি বছর দেশটিতে হিবাকুশাদের সংখ্যা এক লাখের নিচে নেমে এসেছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে করছেন হিরোশিমা স্মরণ সভায় উপস্থিত ৭১ বছর বয়সী ইয়োশিকাজু হোরিয়ে।

তিনি বলেছেন, ইউরোপ, এশিয়া, এমনকি জাপানেও ভয়ানক সব ঘটনা ঘটছে। আবারও যেন সব একই দিকে যাচ্ছে। বিশ্বের সব নেতার প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা হিরোশিমায় এসে পারমাণবিক বোমার বাস্তবতা স্বচক্ষে দেখে যান। আমার নাতি-নাতনি আছে এবং আমি শান্তি চাই, যেন তারা সুখে থাকতে পারে। হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল পার্কে পারমাণবিক বিস্ফোরণের ট্র্যাজেডির ৮০তম বছরের স্মরণানুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলসহ ১২০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল। পারমাণবিক অস্ত্র আবিষ্কারের পর জাপানই একমাত্র ভুক্তভোগী দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র ব্যবহারকারী শক্তি। সেই থেকে শান্তির সংবিধান প্রণয়নকারী জাপান পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের পক্ষে নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে, যদিও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে জাতিসংঘের চুক্তিতে দেশটি স্বাক্ষরকারী নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত