জিএমপি কমিশনার বললেন

সাংবাদিক তুহিন হত্যায় পুলিশের ব্যর্থতা আছে

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান বলেছেন, ‘সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকা-ে পারুল আক্তার ওরফে গোলাপী নামে একজন নারী দিয়ে হ্যানিট্রেপ করা হয়েছে। বাদশা নামে এক ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ২৫ হাজার টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় পারুল আক্তার ওরফে গোলাপীকে দিয়ে হ্যানিট্রেপ করা হয়। ওই নারী বাদশাকে বিরক্ত করতে থাকে এক পর্যায়ে বাদশা নারীকে ঘুষি মারেন। এ সময় গোলাপীর সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাদশাকে কোপ দেয়। বাদশা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তার পিছু ধাওয়া দেয় একদল সন্ত্রাসী। আর বাদশাকে কোপানো এবং ধাওয়া দেওয়ার ভিডিও চিত্র ধারণ করছিলেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন। ভিডিও ধারণের ঘটনা টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা তুহিনকে ধারণকৃত ভিডিও কেটে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। তুহিন ভিডিও ডিলিট না করায় সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তুহিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তুহিন দৌড়ে গিয়ে একটি মুদি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে সন্ত্রাসীরা তুহিনকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।’

এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এর মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, একজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। এ ঘটনায় পুলিশের কিছুটা হলেও ব্যর্থতা অবশ্যই আছে।

তিনি বলেন, ‘ভিডিও ক্লিপ দেখে আটজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

প্রেসব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূইয়া, মো. রবিউল হাসান, এস এম আশরাফুল আলম, এস,এম শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সবার বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী কেটু মিজানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে।  গাজীপুর মহানগরীতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম জনবল রয়েছে। তা দিয়ে এ বিশাল আয়তনের সিটি করপোরেশনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে হচ্ছে। এ সময় তিনি পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সার প্রতি অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলেই ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে। অপরাধীরা আদালতে স্বীকার না করলেও প্রমাণই তাদের অপরাধ প্রমাণ করবে। সর্বোচ্চ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।’ এ সময় তিনি সাংবাদিক সম্প্রদায়ের কাছে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিহত তুহিনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

হঠাৎ ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জিএমপি কমিশনার বলেন, ‘৫ আগস্টের পর গাজীপুরে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকারত্ব বেড়েছে, ফলে অপরাধও বেড়েছে। পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক শক্তি এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, যা নজরদারিতে রয়েছে।’

এদিকে, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হক শুক্রবার মধ্যরাতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব, বাকিদের গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।

গ্রেপ্তাররা হলেন- পাবনার চাটমোহরের ফয়সাল হাসান, কুমিল্লার হোমনার শাহ জালাল, সুমন, মো. মিজান ওরফে কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপী, আল আমিন এবং মো. স্বাধীন। এর মধ্যে স্বাধীনকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত