ভারতীয় ক্রিকেটে এখন সময় শুভমান গিলের। ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার ইংল্যান্ডে তার প্রথম টেস্ট অধিনায়কত্ব সিরিজেই দলকে ২–২ ড্র করিয়েছেন, ব্যাট হাতে করেছেন চারটি সেঞ্চুরি। তার এই সাফল্যে যেমন নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতি এসেছে, তেমনি সামনে এশিয়া কাপ ২০২৫ দিয়েই শুরু হচ্ছে নতুন দায়িত্বের অধ্যায়। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হতে যাওয়া আট দলের এই টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে সূর্যকুমার যাদবের ডেপুটি হিসেবে সহ-অধিনায়ক হবেন গিল।
শেষবার গিল টি–টোয়েন্টি খেলেছেন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। এরপর টানা তিন মৌসুমে আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে ফিরিয়ে এনেছে ছোট ফরম্যাটে। ২০২৩-এ ৮৯০ রান (স্ট্রাইক রেট ১৫৭.৮০), ২০২৪-এ ৪২৬ রান (১৪৭.৪০) এবং ২০২৫-এ ৬৫০ রান (১৫৫.৮৮) করে নির্বাচকদের আস্থা জয় করেছেন।
ওয়ানডের নেতৃত্বও সামনে
ভারতীয় বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গিল শুধু টি–টোয়েন্টির সহ অধিনায়কই নন, শিগগিরই ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। বর্তমান অধিনায়ক রোহিত শর্মা কেবল ওয়ানডে ও আইপিএল খেলেন, ফলে তার ফিটনেস ও ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বোর্ড চাইছে ২০২৭ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের আগে থেকেই তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে।
রোহিত–কোহলির বিদায়ের আভাস
এদিকে, ভারতীয় দৈনিক জাগরণ জানিয়েছে—দুই বছর পরের বিশ্বকাপ নয়, বরং আসন্ন অক্টোবর–নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সফরের পরই ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে পারেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। বোর্ডের এক কর্তা পত্রিকাকে বলেছেন, “বিরাট ও রোহিত আমাদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় নেই। অস্ট্রেলিয়া সফরেই হয়তো ক্যারিয়ারের ইতি ঘটবে।” ইতিমধ্যে তারা টেস্ট ও টি–টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটেও সক্রিয় নন। নির্বাচকদের মতে, বছরে কয়েকটি ওয়ানডে খেলে ম্যাচ ফিট থাকা সম্ভব নয়, তাই এখনই তরুণদের দায়িত্ব দেওয়া জরুরি।বোর্ড নাকি রোহিত–কোহলিকে ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিজয় হাজারে ট্রফি খেলার নির্দেশ দেবে। ঘরোয়া এই ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতায় খেললেই বিশ্বকাপ দলে থাকার সুযোগ মিলবে। তবে বাস্তবে তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুবই কম, ফলে ওয়ানডেতে তাদের ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
নতুন যুগের সূচনা
মাত্র ২০ বছর বয়সে দিওধর ট্রফিতে বিরাট কোহলির রেকর্ড ভেঙে অধিনায়কত্ব করা গিল ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন ভারতের নতুন নেতৃত্বের প্রতীক। এশিয়া কাপে তিনি ওপেন করবেন নাকি তিন নম্বরে নামবেন, সেটি ঠিক হয়নি। তবে আরব আমিরাতের ধীরগতির পিচে তার মতো স্থিতিশীল ব্যাটারের গুরুত্ব অনেক। পাকিস্তানের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ব্যর্থ হলে ভরসা হতে পারেন শুবমান গিল।
