পঞ্চগড়ের ধাক্কামারা ইউনিয়ন

স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার করলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ এএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মালাদাম বাজার থেকে নলেহাপাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরা।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কে কাদার কারণে চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে আশপাশের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীসহ এই সড়কে চলাচলকারী দুই সহস্রাধিক মানুষ। খানাখন্দের কারণে এই সড়কে চলাচল করা ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন কাদায় আটকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও অনেক সময় কাদায় পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে।

সবার ভোগান্তি লাঘবে সড়ক সংস্কারে অংশ নিয়েছে মালাদাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা।

গতকাল সোমবার দুপুরে ক্লাসের বিরতিতে সড়কের কাদা সরিয়ে বালি দিয়ে খানাখন্দ ভরাট করে যান চলাচলের জন্য উপযোগী করা হয়। তবে স্থায়ীভাবে ভোগান্তি লাঘবে সড়কটি পাকা করার দাবি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের।

মালাদাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুঁই আক্তার বলে, ‘সড়কটি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে খুব কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছি। কাদার কারণে সড়ক দিয়ে হাঁটা যায় না। তার ওপর যেখানে-সেখানে বড় বড় গর্ত। আমরা অনেক সময় পড়ে গিয়ে বই ভিজে যায়, আমাদের পোশাক ভিজে যায়। আমরা আহত হই।’

একই বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জয়ন্ত চন্দ্র রায় বলে, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে এই সড়কে যাতায়াত করছিলাম। আজ (গতকাল সোমবার) সব শিক্ষার্থী মিলে আমরা সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করলাম। আমরা চাই সড়কটি পাকা করা হোক।’

বুড়িরবান এলাকার বাসিন্দা প্রসন্ন চন্দ্র রায় বলেন, ‘সড়কটি দিয়ে অন্তত তিনটি ইউনিয়নের ২০ হাজারের বেশি মানুষ যাতায়াত করে। প্রতিদিন স্থানীয় ময়দানদীঘি বাজারে কৃষিপণ্য নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভ্যানে করে পণ্য নেওয়া যায় না। দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়।’

মালাদাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘মালাদাম বাজার থেকে ময়দানদীঘি সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশ খানাখন্দে ভরা। অতি দ্রুত সড়কটি পাকা করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটি প্রতি বছরই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংস্কার করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে অন্তত তিনবার সংস্কার করতে হচ্ছে। তবু খানাখন্দ বন্ধ করা যাচ্ছে না। কাদাও বন্ধ করা যাচ্ছে না।

মানুষ অনেক কষ্ট করে সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে। সড়কটি পাকা করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত