ব্রেভিস ঝড়ে উড়ে গেল অস্ট্রেলিয়া

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪২ এএম

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড ভেঙে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজে সমতায় ফেরান তরুণ ব্যাটার ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ‘বেবি এবি’ খ্যাত মাত্র ২২ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান ব্যাটার খেলেন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইনিংস। মাত্র ৪১ বলে করেন দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি এবং সেই সঙ্গে হয়ে যান এই ফরম্যাটে সেঞ্চুরি করা সবচেয়ে কমবয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার। ব্রেভিসের বিধ্বংসী অপরাজিত ১২৫ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে প্রোটিয়ারা গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ, ৭ উইকেটে ২১৮ রান। আর ম্যাচ জেতে ৫৩ রানের বড় ব্যবধানে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়ের রেকর্ডও এটি।

ইনিংসের শুরুতে অবশ্য চাপে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ৫৭ রানে নেই ৩ উইকেট। এর পরেই ব্যাট হাতে নেমে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ব্রেভিস। প্রথম ৮ বলে ১২ রান করার পর তিনি ধীরে ধীরে হাত খুলতে থাকেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল বোলিংয়ে এলেই হাঁকান ছক্কা। ১২তম ওভারে ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে প্রথম বলে স্টাবস সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক দেন ব্রেভিসকে। পরের বলেই তিনি ছক্কায় পূর্ণ করেন ফিফটি। এরপর ফুলটস বল উড়িয়ে দেন কাউ কর্নারের ওপর দিয়ে। দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনা পরের বলেও ছক্কা আসে, আর শেষ বলটিও উড়িয়ে পাঠান সীমানার ওপারে। মাত্র ৪ বলে ৪৪ থেকে ৬৬ রানে পৌঁছে যান। মাত্র ১৬ বলে ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান এই ডানহাতি ব্যাটার। যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে দ্রুততম শতক। শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলে ১২৫* রানে অপরাজিত থেকে ফেরেন। তার ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ৮টি ছক্কা। একাই ৯৬ রান করেছেন বাউন্ডারিতে এবং ৬৬ রান এসেছে স্ট্রেইট ব্যাট শট থেকে, যাকে ক্রিকেটের ভাষায় বলে ‘ভি’। ট্রিস্টান স্টাবসের সঙ্গে ব্রেভিসের ১২৬ রানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসকে স্থিতি এনে দেওয়ার পাশাপাশি বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেয়। তবে শেষ মুহূর্তে কিছুটা ছন্দ হারায় প্রোটিয়ারা। অ্যাডাম জাম্পার বলে স্টাবস আউট, ডোওয়ারশুইস ফেরান রাসি ফন ডার ডুসেনকে। আর জশ হ্যাজলউডের ফুলটসে বোল্ড হয়ে যান করবিন বশ। ১৩ বলে ৩ উইকেটে ১৪ রান হারানোর পরও শেষ ১০ বলে আবারও ব্রেভিসের ভরসায় শেষ পর্যন্ত তারা থামে ২১৮ রানে।

২১৯ রানের লক্ষ্যে নেমে অস্ট্রেলিয়া চলছিল সমানতালে, ১০ ওভারে ৩ উইকেটে ১০৪ রান তুলে ফেলে। টিম ডেভিড ছিলেন ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালানোর মুডে, মেরেছেন বিশাল ছক্কা যা মাঠের ছাদ পেরিয়ে বাইরে চলে যায়। কিন্তু কাগিসো রাবাদার বলে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও টিনেজ বাঁহাতি পেসার কেওয়েনা মাফাকা এবং অলরাউন্ডার করবিন বশ দুজনেই নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। প্রথম ম্যাচে ৪টি ক্যাচ ফেললেও এদিন দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডিং ছিল অনেক ভালো। লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াস ও ব্রেভিস দুজনেই দারুণ ক্যাচ নিয়েছেন। তবে ট্রিস্টান স্টাবস আবারও একটি সহজ ক্যাচ মিস করেন। তাতে দ্বিতীয় জীবন পান টিম ডেভিড। প্রথম ম্যাচেও ডেভিডের ক্যাচ ফেলেছিলেন তিনি। তবে শেষ দিকে মিচেল মার্শের গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ধরে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন স্টাবস। যার শেষটা হয় দারুণ এক রেকর্ডময় জয়ে। এতে সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। শনিবার শেষ ম্যাচে দুই দলই মাঠে নামবে সিরিজের ফয়সালা করার উদ্দেশ্য নিয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত