স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ কি পালিয়েছে?

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪৯ এএম

স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে, কিন্তু কেন? এ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে আমাদের সামনে ভেসে ওঠে সাড়ে পনেরো বছরের নির্মম রাজনৈতিক নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড ও গুমের ভয়াবহ চিত্র। শুধু রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বিরোধী দলের ওপর চালানো হয়েছে নির্মম নির্যাতন, হত্যা এবং লাশ গুম যা মানবতার সর্বোচ্চ অবমাননা ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এই পাশবিকতার সঙ্গে যারা জড়িত শেখ হাসিনা, দলীয় নেতাকর্মী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব তাদের কি মানবিকতা ছিল? কীভাবে এমন হয় যে রাষ্ট্রই জনগণের জীবন ও অধিকার রক্ষা না করে, দমন ও হত্যা করে? শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে পালিয়ে গেলেও তার শাসনের স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা ও কাঠামো রাজনীতিতে অটুট রয়েছে। দমন, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণ এখনো রয়ে গেছে। স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদীব্যবস্থা ভেঙে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। নতুবা অন্য কেউ এসে পুনরাবৃত্তি করবে। স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি একটি সিস্টেম। এর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক পন্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র ও সংস্কৃতি বিনির্মাণের বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার পতন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে, ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী মনস্তত্ত্বের পরিবর্তন হয়নি; কেবল নেতৃত্ব বদলেছে। কিন্তু সেই মানসিকতা, কাঠামো ও কৌশল প্রায় অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

রাজনৈতিক দর্শনের ইতিহাসের প্রশ্ন স্বৈরতান্ত্রিক শাসকের প্রবণতা কি জন্মগত, নাকি সময়, পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পরিবেশে গড়ে ওঠে? ইতিহাস বলছে, বহু শাসক প্রথমে জনগণের মুক্তিদাতা, সংস্কারক বা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিদাতা হিসেবে আবির্ভূত হন; কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর ধীরে ধীরে বিরোধীকণ্ঠ দমন, ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচনের পথে এগিয়ে যান। তারা স্বৈরাচারী শাসন টিকিয়ে রাখতে কয়েকটি কৌশল ব্যবহার করেন। প্রথমত, বিরোধী দল ও মত দমন যেমন বিরোধী নেতাদের কারাবন্দি বা নির্বাসিত করা, দলীয় বিভাজন সৃষ্টি এবং সমালোচকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন। দ্বিতীয়ত, ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণ যেখানে নির্বাহী বিভাগের হাতে সব সিদ্ধান্তের ক্ষমতা কুক্ষিগত হয় এবং সংসদ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়। তৃতীয়ত, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, সেন্সরশিপ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার। চতুর্থত, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সুবিধা একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত করে তাদের আনুগত্য নিশ্চিত করা। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পরও আমরা এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। গণআন্দোলনের জয় হলেও স্বৈরতান্ত্রিক সংস্কৃতি পুরোপুরি বদলায়নি। এরশাদের একদলীয় শাসন ভেঙে গেলেও রাষ্ট্রের আমলাতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে কর্তৃত্ববাদী ধারা অব্যাহত ছিল। ফলাফল হিসেবে, ৯০-পরবর্তী সরকারগুলো একই কৌশলে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসন সেই ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি শুধু এরশাদ আমলের স্বৈরতান্ত্রিক কৌশল পুনরুজ্জীবিত করেননি বরং প্রযুক্তি, ডিজিটাল নজরদারি ও প্রোপাগান্ডার মেশিন ব্যবহার করে আধুনিক রূপ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের দলীয় নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনের সম্পূর্ণ দলীয়করণ, বিচার বিভাগে রাজনৈতিক প্রভাব ও ভিন্নমতের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন এসব তার শাসনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

গ্রামশি তার হেজেমনি তত্ত্বে দেখিয়েছেন, ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী কীভাবে আদর্শ ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয়তাবাদকে ব্যবহার করে। তিনি বলেন, ‘শাসকশ্রেণি শুধু শক্তির মাধ্যমে নয়, সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও জনগণের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।’ বাংলাদেশে উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারণা রাজনৈতিক ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ ও ‘উন্নয়নকে’ একমাত্র গ্রহণযোগ্য বয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, ভিন্নমতকে দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়া হয়েছে যা গ্রামশির তত্ত্বের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ‘স্বৈরাচার, শাসকের লোভ ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে জন্ম নেয়।’ ফ্যাসিবাদ স্বৈরতন্ত্রের চরম রূপ, যেখানে জনগণের স্বাধীনতা হরণ করে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বেঞ্জামিন বারবার ও হান্না আরেন্টের মতে, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন রাষ্ট্রের নামে জনগণের অধিকার হরণ করে এবং ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে।’ জন লকের সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব বলছে, ‘জনগণ রাষ্ট্রের কাছে তাদের অধিকার অর্পণ করে, কিন্তু রাষ্ট্র যখন সেই অধিকার রক্ষা না করে বরং নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে, তখন স্বৈরাচারের জন্ম হয়।’ ইতিহাসে দেখা যায়, গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় উঠে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নজির আছে হিটলার, মুসোলিনি, ইদি আমিন, কিম জং উন’রা বিরোধী মত নির্মূল করেছেন। তারা নিজেদের ও সহযোগীদের অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করতে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। কার্ল মার্কস বলেছেন, ‘রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক শ্রেণিসংগ্রামের প্রতিফলন।’ মার্কোস, মাদুরো ও মোবারক ব্যবসায়ী ও সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে স্বৈরাচারী শাসন গড়ে তুলেছেন। নোয়াম চমস্কি বলেছেন, ‘ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থে অন্য রাষ্ট্রে শাসনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে।’ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই একনায়কতান্ত্রিক পথে হাঁটেন। ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক দলীয়করণ, বিরোধী দল ও মত দমন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে একতরফাভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা তার শাসনের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য। তার শাসনামলে হাজারো বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী খুন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালাকানুন ব্যবহার করে সাংবাদিক, ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। প্রশাসনিক পদে দলীয় লোক বসিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতা নষ্ট করা হয়েছে। অর্থনীতি কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সরকারি প্রকল্প, ব্যাংক খাত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েছে এবং কোটি মানুষের বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের আমলাতন্ত্রও স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক নির্দেশ মেনে তারা শাসকের সঙ্গে একটি জৈবিক সম্পর্ক তৈরি করেছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মৃত্যু ডেকে আনে। গণতন্ত্র ও আমলাতন্ত্রের সম্পর্ক দ্বন্দ্বপূর্ণ হলেও পরস্পরের পরিপূরক। গণতান্ত্রিক সরকার নীতিনির্ধারণ করে, আর আমলাতন্ত্র তা বাস্তবায়ন করে। কিন্তু রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণ আমলাতন্ত্রকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অদক্ষ করেছে, যা গণতন্ত্রের বড় প্রতিবন্ধক। দুর্নীতিপরায়ণ আমলারা শাসনব্যবস্থা স্বৈরাচারী ও দমনমূলক করে তোলেন। শেখ হাসিনার আমলাতন্ত্র ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে, বিরোধী দল ও মিডিয়া দমন করে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করেছে। স্বৈরতন্ত্রে সুশাসন ও জবাবদিহি থাকে না, বিচার ও আইনশৃঙ্খলা দলীয় নিয়ন্ত্রণাধীন হয়, আর অর্থনৈতিক সুযোগ নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। ফলে বৈষম্য ও সামাজিক অবক্ষয় বাড়ে, অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। স্বৈরতান্ত্রিক শাসকরা অনেক সময় অপরাধীদের আশ্রয় দেয়, কারণ তারা রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগায়, যা সমাজে ভয় ও অরাজকতা সৃষ্টি করে। ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন শেখ হাসিনার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতাকে সহায়তা করেছে, তবে এর বিনিময়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পারিবারিক স্বার্থরক্ষাও তার শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের মূল ভিত্তি ছিল ভয়ভীতি সৃষ্টি করে শাসন গুম, খুন, নির্যাতন ও দমন। ইতিহাস বলে, এমন শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয় না; জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে স্বৈরাচারের পতন অনিবার্য। তাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের পতন হয়েছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে গণতন্ত্রের মূলনীতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থেকে বিচ্যুত হলে যেকোনো দল স্বৈরাচারী পথে যেতে পারে। তাই প্রত্যেক ক্ষমতাসীন দলকে জনগণের অধিকার ও কল্যাণকে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে, নতুবা দেশ আবারও স্বৈরাচারের অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। শেখ হাসিনার শাসনে বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি দলীয় নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যা গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের বড় কারণ। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা অক্ষত রয়েছে, ফলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো বাস্তব পরিবর্তন হয়নি। অর্থনীতিতে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব ও দুর্নীতি অব্যাহত আছে, যা স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি শক্তিশালী করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বড় অংশ রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হাতে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণাধীন থাকায় গুম কমলেও রাজনৈতিক গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ হয়নি। সেনাবাহিনী জনগণের নিরপেক্ষ সুরক্ষা বাহিনী হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের পরও একটি জাতীয় ঐকমত্যভিত্তিক কোনো বিষয়ে রোডম্যাপ তৈরি হয়নি। ফলে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন নিরপেক্ষ হয়নি, দুর্নীতিবাজদের বিচার হয়নি এবং সাংস্কৃতিক সংস্কারও হয়নি। যদি এই অবস্থা বজায় থাকে, তাহলে স্বৈরতন্ত্র শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হবে এবং গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সুশাসন ও ন্যায়ের ভিত্তিতে দেশ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও দেশের স্থিতিশীলতার পথে, কিছু বিষয় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।  বিএনপি ৩১ দফা রূপরেখা এবং ‘ভিশন-২০৩০’-এ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যা একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক রূপান্তরের বার্তা বহন করে। তবে, সময় বলে দেবে এই রূপান্তরের বার্তা কতটা কার্যকর হবে। শুধু আইন বা অবকাঠামো পরিবর্তন করলে সমাজ বদলায় না যদি মানুষের মানসিকতা গোঁড়ামি, কুসংস্কার ও অসহিষ্ণুতায় আবদ্ধ থাকে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সবচেয়ে বড় বাধা হলো, সংকীর্ণ চিন্তাধারা ও অন্ধবিশ্বাস। তাই রাজনৈতিক, শিক্ষাগত ও সামাজিক পরিবর্তনের আগে চিন্তার কাঠামোর সংস্কার জরুরি। টেকসই সমাজ পরিবর্তনের জন্য দরকার, মানুষের চিন্তাচেতনা সংস্কার ও রূপান্তর।

লেখক: গবেষক ও রাজনৈতিক কলাম লেখক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত