যতীন সরকার আর নেই

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩৭ পিএম

বাংলাদেশের প্রগতিশীল বাম ধারার বুদ্ধিজীবী, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও শিক্ষক যতীন সরকার মারা গেছেন। 

বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকাল পৌনে ৩টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ময়মনসিংহ সিপিবির জেলা কমিটির সভাপতি এমদাদুল হক মিল্লাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

৮৯ বছর বয়সী যতীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। গত জুন মাসে তিনি পড়ে গিয়ে উরুর হাড়ে আঘাত পান। এরপর তাকে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। গত সপ্তাহে তাকে ময়মনসিংহে স্থানান্তর করা হয়।

যতীন সরকার দুই মেয়াদে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ছিলেন। তার মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উদীচীর ময়মনসিংহ কার্যালয়ে নেওয়া হবে।

শেষকৃত্যের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সিপিবির জেলা কমিটির সভাপতি মিল্লাত।

অধ্যাপক যতীন সরকার ১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট নেত্রকোণার কেন্দুয়ার চন্দপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক এই শিক্ষক দীর্ঘকাল মননশীল সাহিত্যচর্চা, বাম রাজনীতি ও প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

লেখক হিসেবে তার অবদান অনন্য। তিনি ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার, ২০০৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পদক, ২০০৫ সালে ‘পাকিস্তানের জন্ম-মৃত্যু দর্শন’ গ্রন্থের জন্য প্রথম আলো বর্ষসেরা গ্রন্থ পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন।

শিক্ষকতা জীবনে ৪২ বছরের বেশি সময় কাজ করার পর ২০০২ সালে অবসর নেন। এরপর স্ত্রী কানন সরকারের সঙ্গে নেত্রকোণায় ফিরে যান।

প্রথম গ্রন্থ ‘সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। এর পর তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা: ‘বাংলাদেশের কবিগান’, ‘বাঙালির সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য’, ‘সংস্কৃতির সংগ্রাম’, ‘মানবমন, মানবধর্ম ও সমাজবিপ্লব’। শিশুদের জন্য লিখেছেন সুপাঠ্য ব্যাকরণ গ্রন্থ ‘গল্পে গল্পে ব্যাকরণ’ (১৯৯৪, বাংলা একাডেমি)।

জীবনী ও গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি চারটি বাংলা একাডেমি জীবনীগ্রন্থ রচনা করেছেন-‘কেদারনাথ মজুমদার’, ‘চন্দ্রকুমার দে’, ‘হরিচরণ আচার্য’, ‘সিরাজউদ্দিন কাসিমপুরী’। সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-‘রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী’, ‘প্রসঙ্গ মৌলবাদ’ ও ‘জালাল গীতিকা সমগ্র’। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা: ‘পাকিস্তানের জন্ম-মৃত্যু দর্শন’, ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব, নিয়তিবাদ ও বিজ্ঞান-চেতনা’, ‘সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবী সমাচার’, ‘সাহিত্য নিয়ে নানাকথা’।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত