সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা, যুবকের লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৫৭ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ৩ সন্তানের জননী সাবিনা আক্তার লাকি (৩২) নামে এক গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা ও অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৩ আগস্ট) ১১টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনূর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সাবিনা আক্তার লাকি ঢাকার গুপিবাগ এলাকার রুবেল মিয়ার স্ত্রী। তবে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ ভিটিকান্দি সড়ক উপ-বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. আবু তাহের সরকারের নামে বরাদ্দ বাসায় প্রায় ৩ বছর ধরে ভাড়া থাকেন নিরব নামে এক যুবক। নিরবের বাসায় আসা যাওয়া করতেন সাবিনা আক্তার লাকি। সরকারি এ কলোনিতে সওজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নামে বাসা বরাদ্দ দিলেও কর্মচারীরা বাসায় না থেকে বহিরাগত লোকজনের কাছে ভাড়া দিয়ে রেখেছে। কলোনিতে প্রায় আড়াইশতাধিক বহিরাগত ভাড়াটিয়া রয়েছে। যার মধ্যে চুরি, ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যাই বেশি। কলোনিটি সওজ কার্যালয়ের ভেতরে হওয়ায় অপরাধিরা এখানে নিরাপতে বসবাস করে অন্যায় অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন।

প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া কোহিনূর আক্তার জানান, সাবিনা আক্তার লাকিকে নীরব তার স্ত্রী পরিচয় দিতেন। তবে লাকি বাসায় নিয়মিত থাকতেন না। মাঝে মাঝে আসতেন। এক রাত থেকে আবার চলে যেতেন। তিনি জানান, (বুধবার) সকালে আমি ভোর ৫টার দিকে রান্না করতে উঠি। এ সময় নীরবের বাসার ভেতর থেকে দরজা ধাক্কার শব্দ শুনতে পাই। তখন দেখি বাহির থেকে দরজা আটকানো। পরে আমার স্বামী দরজা খোলেন। 

নিহতের দুই মেয়েকে আমি জিজ্ঞাসা করি এত সকালে তোমরা দরজা ধাক্কাচ্ছ তুমার মা বাবা কই। তখন ৬-৭ বছরের বড় মেয়ে বলে বাবা বাহিরে গেছেলাইট আনতে আর মাকে অনেক ডেকেছি উঠেনা। তখন আমি ভেতরে গিয়ে দেখি লাকির গলা কাটা। সে মৃত। পরে কলোনির ম্যানেজার দেলুকে ডাক দিলে তিনি এসে পুলিশকে খবর দেন।

নিহতের স্বামী রুবেল মিয়া বলেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে রাগ করে লাকি মাঝে মাঝে বাসা থেকে চলে যেত। কখনো দুদিন কখনো ৪-৫ দিন পর আবার ফিরে আসতো। আগে একা বের হয়ে গেলেও কয়েকদিন আগে ২ মেয়েকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। কোথায় যায় এ বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না। জানতে চাইলেও আমাকে কিছু জানাত না। উল্টো রাগা রাগি করতো। বুধবার সকালে পুলিশ ফোন করে আমার স্ত্রীর মৃত্যুর খবর দিলে আমি এখানে এসে জানতে পারি আমার স্ত্রী নীরবের কাছে আসতো। নীরব তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে বলে রুবেলের অভিযোগ।

রুবেল আরো বলেন, লাকি বছর খানেক আগেও অন্য এক লোকের সঙ্গে পরকীয়া করে আমাকে ছেড়ে ডেমরা এলাকায় ভাড়া থাকতো। তখন পুলিশের সহায়তা আমি ওই লোকের কাছ থেকে তাকে আবার আমার সংসারে ফিরিয়ে নেই। 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনূর আলম বলেন, গৃহবধূ লাকি আক্তার নিজের স্বামী থাকতেও নীরব নামের এক লোকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে তার বাসায় স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসা যাওয়া ও মাঝে মাঝে রাতে থাকতেন। তার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে তিনি নীরবের বাসায় ছিলেন।

স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে নীরবের ভাড়া বাসা থেকে তার গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পলাতক নীরবকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত