রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নিবন্ধনের কথা বলে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের টাকা লেনদেন সংক্রান্ত ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। কর্মকর্তার দাবি, ধারের টাকা ফেরত নিয়েছেন। তবে কত টাকা ধার দিয়েছিলেন তা বলতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম নজরুল ইসলাম। তিনি ২০১৯ সাল থেকে বালিয়াকান্দি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগকারী তুষার কুমার বিশ্বাসের বাড়ি বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ভররামদিয়া গ্রামে।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার সামনে বসে তুষার কুমার বিশ^াস দুই হাতে টাকা গুনছেন। টাকা গোনা শেষ হলে ওই কর্মকর্তা সেই টাকা হাতে নিয়ে তার টেবিলের ডান পাশের একটি ডয়ারে রাখছেন। তাদের মধ্যে কিছু কথোপকথন হয়েছে। তবে তা অস্পষ্ট।
অভিযোগকারী তুষার কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমি ঠিকাদারির কাজ করি। ছয় মাস আগে খাল খননের জন্য পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নিবন্ধনের জন্য আমি উপজেলা সমবায় সমিতির কার্যালয়ে যাই। এ সময় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ঢাকার হেড অফিস ও বিভিন্ন খরচের কথা বলে আমার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। আমি তিন কিস্তিতে তাকে মোট ৯৫ হাজার টাকা দিই। প্রথম কিস্তিতে তাকে ৩৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় কিস্তিতে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। তৃতীয় কিস্তির টাকা জমা দেওয়ার সময় আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি ভিডিও করে রাখা হয়। ছয় মাস হয়ে গেলেও তিনি আমার নিবন্ধন করে দিচ্ছেন না। এখন তাকে নিবন্ধনের কথা বললেই তিনি আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। পরে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এই সমিতির নিবন্ধন করতে কোনো টাকা-পয়সা লাগে না। ওই কর্মকর্তা আমার কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকাগুলো নিয়েছেন।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঘুষ খাই না। তুষার কুমার বিশ্বাস যে অভিযোগটি দিয়েছে তা ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি আমাকে হেয় করার জন্য এবং নিজের স্বার্থটাকে পাকা করার জন্য এ কাজ করেছেন। তুষার কুমার বিশ্বাস ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে ভুয়া কাগজপত্র সাবমিট করেছেন। আমার কাছে এসব প্রমাণ আছে। তুষার বিশ্বাসের সঙ্গে আমার পাঁচ-ছয় বছরের সম্পর্ক। এলাকার লোক হিসেবে তার সঙ্গে আমার মাঝে মধ্যেই আর্থিক লেনদেন হতো। তিনি বিপদে পড়লে আমার কাছ থেকে টাকা নিতেন। আবার আমার প্রয়োজন হলে তার কাছ থেকে ধার নিয়ে চলতাম। অফিসে সেই দিন তুষার কুমার বিশ্বাসের কাছ থেকে ধার দেওয়া টাকা ফেরত নিচ্ছিলাম।’ তবে কত টাকা ফেরত নিচ্ছিলেন এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি টাকার অঙ্ক বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিনা পারভীন বলেন, ‘আমি বিষয়টি কিছুক্ষণ আগে আরেক কর্মকর্তার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমার কাছে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
