“১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়াশীল ক্যু সংগঠিত হয়। ওই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে ‘প্রতিক্রিয়ার ধারা’ নিরঙ্কুশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তার মেয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দু’দফায় ২৩ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও তারা বঙ্গবন্ধুর নীতি থেকে সরে গিয়েছিল।”
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) গতকাল শুক্রবার বিকেলে পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন দলটির নেতারা।
সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা, রাগীব আহসান মুন্না, হাসান তারিক চৌধুরী সোহেল, কেন্দ্রীয় সদস্য জাহিদ হোসেন খান, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম।
নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার জন্য স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রকে হরণ করেছে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে ব্যর্থ হয়ে লুটেরা ধনিক শ্রেণি ও সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দিয়েছে। যার ফলে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়।
আলোচনা সভায় বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও জনগণের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। বরং স্বাধীনতাবিরোধী চরম দক্ষিণপন্থি শক্তি মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রাষ্ট্রের চার মূলনীতির ওপর আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ধারায় বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ নয়, বাম গণতান্ত্রিক শক্তির সমাবেশ গড়ে তুলতে হবে। এটিই হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রেষ্ঠ সম্মান প্রদর্শন।
সভায় বক্তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
