গ্রাহকের কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন খুলনার হাজিডাঙ্গা আদর্শ গ্রাম উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের মালিক রঞ্জন মণ্ডল। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, সমিতি ও নিজের নামের সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর করে তারা পরিবারসহ ভারতে চলে গেছেন। গত শুক্রবার ভোরে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে টাকা পাওয়ার আশায় সমিতির কার্যালয়ে জড়ো হন শত শত গ্রাহক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রঞ্জন মণ্ডল ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের হাজিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। একসময় ডুমুরিয়া বাজারে তৃষ্ণা মিষ্টান্ন ভান্ডার পরিচালনা করতেন। ব্যবসায় বেশ পরিচিতি থাকলেও মিষ্টি বিক্রির আড়ালে ২০০৫ সালের দিকে তিনি সমিতি খুলে সুদের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠলে সমবায় অফিসের নিবন্ধন পান তিনি। সমিতির নাম দেন হাজিডাঙ্গা আদর্শ গ্রাম উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির সভাপতি ছিলেন রঞ্জন মণ্ডল এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তার স্ত্রী সন্ধ্যা মণ্ডল।
স্থানীয় লোকজন জানান, নিবন্ধন পাওয়ার পর গ্রাহক বাড়াতে গ্রামে গ্রামে নারীকর্মী নিয়োগ দেন রঞ্জন মন্ডল। যাদের কাজ ছিল মানুষকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে সমিতির সদস্য করা। অন্যদিকে সমিতিতে ব্যাংকিং পদ্ধতিতে লেনদেন, ডিপিএস, দৈনিক সঞ্চয়, বিশেষ সঞ্চয়, মাসিক সঞ্চয় ও মেয়াদি সঞ্চয়সহ (ডাবল স্কিম) নানা ধরনের স্কিম চালু করেন তিনি। এ ছাড়া ১০ বছর আগে ডুমুরিয়া হাসপাতাল মোড়ে মাত্র তিন শতাংশ জমির ওপর ৮ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেন তিনি। ওই ভবনেই চলত সমিতির কার্যক্রম। এ ছাড়া সমিতির নামে ১০টি যাত্রীবাহী বাস ক্রয় করেন। এসব খবর চাউর হলে দ্রুত গ্রাহক বৃদ্ধি পেতে থাকে। সমিতিতে জমা হতে থাকে কোটি কোটি টাকা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, সমিতিতে গ্রাহকের কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা জমা হয়। সমিতির টাকা ও কেনা সম্পদ বিক্রি করে ভারতে পাচার করেছেন। সমিতির গ্রাহক প্রেমানন্দ রায় জানান, তিনি ৮ বছরের মেয়াদে মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে একটি ডাবল স্কিম চালু করেছিলেন। ইতিমধ্যে ৬৪ মাস টাকা জমা দিয়েছেন। গত দুই মাস ধরে সমিতি টাকা নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এই স্কিমে তার মূলধন ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ ছাড়া নগদ ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার আরেকটি সঞ্চয় আমানত রয়েছে তার।
গ্রাহক সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুস সালাম জানান, তাদের পরিবারের সদস্যদের মোটা অঙ্কের টাকা জমা রয়েছে সমিতিতে। গত শুক্রবার ভোরে তারা শুনতে পান রঞ্জন মন্ডল তার পরিবার নিয়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন। যাওয়ার আগে তারা কিছু মূল্যবান সম্পত্তি ডুমুরিয়ার প্রভাবশালীদের কাছে হস্তান্তর করে গেছেন।
এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা সমবায় কর্মকর্তা সৈয়দ জসীম উদ্দিন বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন তার ৮ তলা বাড়ি-সম্পদ ও গাড়ি অন্য লোকের কাছে হস্তান্তর করে ভারতে চলে গেছেন। তবে লিখিত অভিযোগ এখনো কেউ করেনি। করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
