অসুস্থ বৃদ্ধকে কোলে করে নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। পথ এতটাই কর্দমাক্ত যে, গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা হেঁটে যাওয়ারও জো নেই। হাঁটু পর্যন্ত কাদা ও গর্তে পড়ে পড়তে হয় বিপদে। দেখলে মনে হবে সড়ক নয় যেন চাষের জমি।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সুয়াবিল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হাজিরখীল গ্রামের ঈদগাহছোলা সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সড়কটির ৩ কিলোমিটার এলাকা বেহাল হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটু সমান কাদা জমে যায়। সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এ গ্রামের ৫ হাজারের বেশি মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি এতই বেহাল যেকোনো যানবাহন তো চলেই না, হেঁটে চলাচলও কষ্টকর। অটোরিকশা, মোটরসাইকেল উল্টে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ওই এলাকায় ১২০০ পরিবারের বসবাস। এই সড়ক হয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ উপজেলা সদর, নাজিরহাট বাজারসহ চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত করেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে রোগীদের নিয়ে। কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে কোলে করে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
ঈদগাহছোলা এলাকায় রয়েছে দুটি মাদ্রাসা। এ ছাড়া শতশত স্কুলগামী শিক্ষার্থীর হেঁটে যাতায়াতে প্রায়ই পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।
সড়কটি বছরের অর্ধেকের বেশি সময় কর্দমাক্ত থাকায় অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারে না। এ ছাড়া এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়, নাজিরহাট কলেজ ও কাটিরহাট কলেজে যেতে হয়। নিরুপায় গ্রামবাসী প্রায়ই মাটি ফেলে কাঁচা সড়কটি মেরামত করলেও বৃষ্টির কারণে তা বেশিদিন টেকসই হয় না। তাই এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটি অবিলম্বে পাকা করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সমাজকর্মী মো. রাসেল রাসু বলেন, ‘বৃষ্টিবাদল ছাড়াও শুকনো মৌসুমে এ সড়কের অধিকাংশ স্থানে উঁচু-নিচু এবং গর্ত থাকে।’ স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মুমিন জানান, রাস্তা খারাপ হওয়ায় প্রতি ২৫ জনের মধ্যে ১০ জন শিক্ষার্থী স্কুল-মাদ্রাসায় আসে না।
উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ জানান, সড়কটি এখনো আইডিভুক্ত হয়নি। সড়কটি আইডিভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সুয়াবিল ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জানতে পারলাম সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক। সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
