পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি অব্যাহত রাখার দাবি

ব্যবসায়ীদের আইপি বন্ধে ভারতে আটকা পড়েছে শতাধিক ট্রাক

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫, ০৪:১৭ পিএম

দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রনে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। পেঁয়াজ আমদানির আইপির ক্ষেত্রে ৩০ টনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অনুমতি না দিলে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের পক্ষ থেকে সংগঠনটির কার্যালয়ে জরুরী সংবাদ সন্মেলনে এই দাবি জানান আমদানিকারকরা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সেখানে হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম,সাধারন সম্পাদক নাজমুল হক, হিলি কাস্টমস সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান,আমদানিকারক রিপন হোসেন প্রমুখ।

সংবাদ সন্মেলনে বক্তারা বলেন, গত ১৪ আগস্ট পেঁয়াজের আইপি দেয় সরকার ফলে ১৭ আগস্ট রবিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। এতে করে দেশের বাজারে পণ্যটির সররবাহ বাড়ায় দাম কমে আসছিল। কিন্তু ১৯ আগস্ট থেকে আবারো হঠাৎ করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বা আইপি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।

আমদানিকাকররা আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেও পেঁয়াজ আমদানির জন্য কোন আইপি ইস্যু করা হচ্ছেনা। এতে করে আমদানিকারকরা আর্থিক ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন।

এর কারন হলো সরকার পেঁয়াজের আইপি উন্মুক্ত করে দিয়েছিল যার ফলে অনেক আমদানিকারক ভারতে পেঁয়াজ ক্রয় করে ট্রাকে লোড করেছিল। ভারতের মোকাম থেকে এসব ট্রাক দেশে আসতে ৫/৬ দিন সময় লাগে যার কারনে যেসব ট্রাক এখনো দেশে প্রবেশের ভারত অভ্যন্তরে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আমদানিকারকরা আইপি পেতেন তারপর এসব ট্রাক দেশে প্রবেশ করতো। কিন্তু হঠাৎ করে আইপি বন্ধ করে দেয়ার কারণে সীমান্তের ওপারে বেশ কয়েকজন আমদানিকারকের শতাধিক পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক আটকা পড়ে আছে। এসব ট্রাক দেশে প্রবেশ করতে না পারলে আমদানিকারকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই যেসব আমদানিকারক ইতোমধ্যে আইপির জন্য আবেদন করেছে ও ভারতে পেঁয়াজ কিনে ট্রাকে লোড করে রেখেছে অন্ততপক্ষে তাদের জন্য পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়ার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি না দিলে আজ থেকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে এতে করে দেশের বাজারে পণ্যটির দাম বৃদ্ধি পাবে। তাই পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি আইপি প্রদান উন্মুক্ত থাকলে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি যেমন বাড়বে তেমনি দেশের বাজারে দাম কমে আসবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারি সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, গত ১৭ আগস্ট পেঁয়াজের আইপি ইস্যু হলে সাড়ে ৫ মাস বন্ধের পর ওইদিন থেকেই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেয়াজ আমদানি শুরু হয়। এরপর থেকে আইপি ইস্যু অব্যাহত থাকায় গতকয়েকদিন পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত ছিল। কিন্তু ১৯ আগস্ট থেকেই পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বা আইপি ইস্যু বন্ধ করে রেখেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। আজ নতুন করে কোন পেঁয়াজের আইপি
ইস্যু হয়নি। তবে পুর্বের ইস্যু করা আইপির বিপরীতে দুয়েকজন আমদানিকারকের আমদানিকৃত কিছু পেঁয়াজ আজ বন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত