আলেকজান্ডার ইসাকের সঙ্গে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সম্পর্ক এখন টানাপোড়েনে। সুইডিশ এই ফরোয়ার্ড প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তার প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে ক্লাব এবং এভাবে সম্পর্ক আর চলতে পারে না। ফলে এই গ্রীষ্মেই বিদায়ের পথ খুঁজছেন তিনি।
ইসাকের জন্য লিভারপুলের করা ১১০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে নিউক্যাসল ১৯ দিন আগে। কিন্তু ইসাকের দাবি, শুরু থেকেই তাকে বলা হয়েছিল বড় কোনো ক্লাব সঠিক অঙ্কের প্রস্তাব দিলে তাকে যেতে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে ইসাক ব্যাখ্যা করেন, “অনেকদিন চুপ থেকেছি। কিন্তু সেই নীরবতার সুযোগে অনেকে নিজের মতো করে কথা বলেছে, যা সত্যি ঘটনার প্রতিফলন নয়। ক্লাব জানত আমার অবস্থান কী। এখন এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন হঠাৎ নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। আসল কথা হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয়েছে, বিশ্বাস হারিয়েছে। তখন সম্পর্ক আর টেকে না। সবারই মঙ্গলের জন্য পরিবর্তন দরকার।”
অন্যদিকে নিউক্যাসলের বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি—অ্যালেক্স এখনও চুক্তির অধীনে আছে। ক্লাবের কোনো কর্মকর্তা তাকে এই গ্রীষ্মে ছাড়তে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়নি। আমরা সেরা খেলোয়াড়দের রাখতে চাই। তবে খেলোয়াড়দের ইচ্ছাও শুনি। কিন্তু নিউক্যাসল ইউনাইটেড, দলের স্বার্থ এবং সমর্থকদের স্বার্থ আগে বিবেচনা করতেই হবে। বর্তমানে বিক্রির শর্ত পূরণ হয়নি।”
ইসাককে নিয়ে গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোর সবচেয়ে আলোচিত কাহিনি হলেও লিভারপুল এখনও বাড়তি প্রস্তাব দেয়নি। এর পেছনে কারণ, নিউক্যাসলকে আগে দুইজন স্ট্রাইকার নিশ্চিত করতে হবে। শোনা যাচ্ছে, নিউক্যাসল যদি দুজন নতুন স্ট্রাইকার পায়, তবেই লিভারপুল অন্তত ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের নতুন প্রস্তাব নিয়ে ফিরবে। কিন্তু নিউকাসল আসলে স্ট্রাইকার খুজে পাচ্ছে না।
কোচ এডি হাও বারবার জানিয়েছেন, ইসাকের জন্য দরজা খোলা। তবে এখন সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়ের হাতে। আপাতত তিনি দলীয় অনুশীলনে নেই। তবে অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে মৌসুমে তাদের প্রথম লিগে ম্যাচে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সমর্থকদের মুখে “লোভী” ডাক শুনেছেন ইসাক। লিভারপুলে যেতে চাইলে হাতে সময় কম, কারণ ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হবে ১ সেপ্টেম্বর।
বিশ্বজুড়ে মানসম্পন্ন স্ট্রাইকারের চাহিদা বেড়েছে। এ মৌসুমেই ৫০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি দামে সাতজন সেন্টার ফরোয়ার্ড ক্লাব বদলেছেন। অথচ এর আগের বছর ছিল মাত্র দুইজন। বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্লিং হাল্যান্ড ও ইসাক ছাড়া এই দামে আনা বেশিরভাগ স্ট্রাইকার সফল হয়নি।
সবকিছু মিলিয়ে, ইসাকের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত—থাকবেন, না কি অ্যানফিল্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ নেবেন, সেই উত্তর মিলবে সেপ্টেম্বরে।
বিবিসি স্পোর্টের প্রতিবেদন অবলম্বনে
বল লাগলো না ব্যাটে, তবুও ৬ রান হলো যেভাবে
রোহিত-কোহলি উধাও, বুড়ো স্টিভ টিকোলোর নাম আইসিসি র্যাংকিংয়ে!