সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের ধানবান্ধি মহল্লায় হঠাৎ মহামারি আকারে ডায়রিয়া রোগের পাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত দশ দিনে প্রায় ৩০০ জন ডায়রিয়ায় রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের কেউ বেসরকারি নর্থবেঙ্গল মেডিকেল হাসপাতাল, কেউ সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অনেকে আবার বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে, মহামারি আকারে ডায়রিয়া রোগের পাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে রোগী ও তাদের স্বজনরা পৌরসভার সাপ্লাই পানিকে দূষণের উৎস্য হিসেবে চিহ্নিত করেন। অপরদিকে, ঘনবসতিপূর্ণ ধানবান্ধি মহল্লাবাসীর দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থা বা পয়ঃনিস্কাশনকে দায়ী করেছেন সিরাজগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে ধানবান্ধি মহল্লায় সরেজমিনে গিয়ে কথা হয়, কামারখন্দ সরকারি কোরপ আলী ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোকতেল হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ আব্দুস সাত্তার ও শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সাথে। তারা জানান, গত তিন দিন থেকে তাদের মহল্লার প্রায় দুই শতাধিক লোক হঠাৎ ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে বাকীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রোগে আক্রান্ত হয়ে বেসরকারি নর্থবেঙ্গল মেডিকেল হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেলারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কেউ কেউ বাড়িতে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। মহামারি আকারে ডায়রিয়া রোগের পাদুর্ভাবের নেপথ্যে আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনেরা পৌরসভার সাপ্লাই পানিকেই দায়ী করেছেন।
বেসরকারি নর্থবেঙ্গল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি রোগী বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের কর্মচারী আলামিন হোসেন বলেন, আমি ও মা-বাবা পৌরসভার সাপ্লাই পানি ব্যবহার করি। তিনজনই গতকাল ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছি।
এস কনস্ট্রাশন কোম্পানির পরিচালক (হিসাব) বলেন, ধানবান্ধি মহল্লাবাসী ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে এখন কোনও না কোনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ দূষণ ও রোগের কারণ অনুসন্ধানে স্থানীয়রা গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার বলেন, ধানবান্ধি ও হোসেনপুর মহল্লা থেকে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। তাদের উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. শারমীন খোন্দকার বলেন, আমরা ধানবান্ধি মহল্লায় তিনদিনে নব্বইজন ডায়রিয়া আকান্ত রোগীর সন্ধান পেয়েছি। তারা প্রাথমিকভাবে পৌরসভার সাপ্লাই পানিকেই দায়ী করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগও ঘিঞ্জি এলাকার পরিবেশ ও দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে কারণ হিসেবে দেখছে।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, কারণ অনুসন্ধানে ঢাকার রোগতত্ত্ব গবেষণা ইনস্টিটিউটের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারাও ঘন ঘন যোগাযোগ করছেন। হয়তো আগামীতে আসবেন। আক্রান্ত এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রাশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপ্রতি রায় বলেন, পৌরসভার সাপ্লাই পানি পরীক্ষা করে দূষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জ জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকন উজ্জামান বলেন, পৌরসভার সাপ্লাই পানি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পানিতে কোনও ফিকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া নেই। তবে, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও ব্যবহার আচরণবিধি যথাযথ না মানায় ধানবান্ধি মহল্লাবাসী ডায়রিয়া আক্রান্ত হতে পারেন।
