রবীন্দ্র-নজরুল প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে স্মরণোৎসব

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৮:১৪ পিএম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ছাগলনাইয়া শাখার উদ্যোগে স্মরণোৎসব ও সংস্কৃতি সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকাল ৪ টায় ছাগলনাইয়া গণপাঠাগার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণোৎসবে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মো. বাতেন। 

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সংস্কৃতি হলো জাতির আত্ম-পরিচয়। আমাদের যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আছে তা নিয়ে আমরা নি:সন্দেহে গর্ব করতে পারি। এই অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে যদি আমরা ধরে রাখতে না পারি তাহলে আমাদের স্বাধীন সত্তা দুর্বল হয়ে যাবে। আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমাদেরকে নজরুল- রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্মের অনুশীলনের মাধ্যমে সাহিত্যকে সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সবাইকে এর জন্য কাজ করতে হবে। তিনি আয়োজক প্রতিষ্ঠান চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

স্মরণোৎসবে সভাপতিত্ব করেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছাগলনাইয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন। ফেনী জেলা চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদস্য সচিব শামীম পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- ছাগলনাইয়া গণপাঠাগারের সভাপতি আবদুস সালাম সরকার,মৌলভী সামছুল করিম কলেজের বাংলা প্রভাষক কবি শিরিন রহমান, ছাগলনাইয়া গণপাঠাগার সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আবুল কালাম আজাদ, কবি ও সাহিত্য সম্পাদক বকুল আকতার দরিয়া ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ফেনী জেলার আহ্বায়ক অর্জুন দাস। অনুষ্ঠানে চারণের শিক্ষার্থী-অভিভাবক ছাড়াও সাংবাদিক, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বসহ শতাধিক সংগীত পিপাসু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান অনন্য। তাদের সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও চেতনা যুগে যুগে জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে। নজরুল তার কবিতা, গান ও লেখনীর মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অসাম্প্রদায়িকতার বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন। অপরদিকে, রবীন্দ্রনাথ তার মানবতাবাদ, নান্দনিকতা ও বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন।

প্রয়াণ দিবসের এ আয়োজনে বক্তারা নতুন প্রজন্মকে রবীন্দ্র-নজরুলের জীবন ও কর্ম থেকে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, মানবিক ও সৃজনশীল সমাজ গঠনের শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা বলেন, নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের চেতনা আমাদের সাহিত্য, সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে যুগে যুগে বাঁচিয়ে রাখবে।

স্মরণোৎসবের আলোচনা শেষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতি সন্ধ্যায় রবীন্দ্র সংগীত ও নজরুল গীতি পরিবেশন করেন। আবৃত্তি করেন তাদের কবিতা। উল্লেখ্য গত ৭ আগস্ট বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এবং আগামী ২৯ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত