মন্ত্রীর বাড়ির সামনে স্বজনদের বিক্ষোভ

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম

গাজায় আটকে থাকা জিম্মিদের অবিলম্বে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ইসরায়েলের দুই মন্ত্রীর বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন জিম্মিদের স্বজনরা। রবিবার স্থানীয় সময় সকাল থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইসরায়েলি দৈনিক টাইমস অব ইসরায়েল। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ এবং কৃষি ও পল্লী উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাভি দিচতার সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। ইসরায়েল কার্টজের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া ইয়েহুদা কোহেন টাইমস অব ইসরায়েলকে জানান, তার ছেলে নিমরোদ কোহেনকে গত ৭ অক্টোবর জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এখনো নিমরোদ মুক্তি পাননি। নিমরোদ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, আমি এখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিতে এসেছি যে আমার ছেলে নিমরোদ, যে ইসরায়েলকে রক্ষার জন্য সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল গাজার কোনো এক অন্ধকার সুড়ঙ্গে সে গত ৬৮৮ দিন ধরে বন্দি আছে। কোহেন আরও বলেন, আমি মন্ত্রীকে এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, তিনি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী; যুদ্ধমন্ত্রী নন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি ইসরায়েলের কৃষি ও পল্লী উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাভি দিতচারের বাসভবনের সামনেও অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। মিশাল লেভি নামের এক নারী জানান, তার বোনের স্বামী ওমারি মিরান এখনো গাজায় জিম্মি অবস্থায় আছেন। মিশাল বলেন, গত ৬৮৮ দিন ধরে আমার ভগ্নিপতি গাজায় জিম্মি অবস্থায় আছেন। আমরা তার পরিবারের সদস্যরা জানতে চাই যে সরকারের দায়িত্ববোধ কোথায় গেল? তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা কী পরিমাণ উদ্বেগ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেনÑ সে ব্যাপারে কোনো ধারণা কি মন্ত্রীদের আছে? ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অতর্কিত হামলা চালায় হামাসের যোদ্ধারা। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় তারা। ওই হামলার জবাবে গাজায় অভিযান শুরু করে আইডিএফ। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের পর ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬২ হাজার ২৫৩ জনে। আহত হয়েছে দেড় লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি। কিন্তু বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হওয়া এবং পুরো গাজা উপত্যকা ধ্বংস্তূপে পরিণত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত সব জিম্মিকে উদ্ধার করতে পারেনি ইসরায়েলি সেনারা। ধারণা করা হচ্ছে, হামাসের হাতে এখন পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মি বন্দি অবস্থায় আছেন।

এদিকে, ইসরায়েলের গাজা দখলের পরিকল্পনা ঠেকাতে উপত্যকাটিতে জাতিসংঘের সেনা মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ডি. হিগিনস। গত শনিবার আয়ারল্যান্ডের সরকারি প্রচারমাধ্যম আরটিইকে এক সাক্ষাৎকারে এমন আহ্বান জানান তিনি। আইরিশ প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচিত বাহিনী গঠনের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা। তার মতে, আইন অনুসারে নিরাপত্তা পরিষদ ভেটো দিলেও জাতিসংঘের মহাসচিব নিজ দায়িত্বে সশস্ত্র সেনা পাঠাতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত