রাজশাহীতে বরখাস্ত হওয়া এসআইকে পুলিশে দিল জনতা

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪২ এএম

রাজশাহীতে বরখাস্ত হওয়া পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে নগরীর হজোর মোড় এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। আটকের পর মারধর করে তাকে নগরীর চন্দ্রিমা থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। পিটুনির শিকার সাবেক এই এসআইয়ের নাম মাহবুব হাসান (৩৫)। তার বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের বহু অভিযোগ আছে। একটি চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পিটুনিতে আহত হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগে জানা গেছে, চাকরিতে থাকাকালে বিভিন্ন জনকে হয়রানি চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্ত মাহবুব হাসান। ভয়ে ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। শনিবার রাতে এলাকায় পেয়ে স্থানীয়রা তাকে ধরে মারপিট করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। ভুক্তভোগীরা তার ওপর চড়াও হন এবং ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন সরকার ও ছাত্রশিবিরের মহানগরের সাবেক সভাপতি খাইরুল ইসলাম। জসিম উদ্দিন উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে বলেন, এই সেই হাসান, যে মানুষকে কখনো গাঁজা, কখনো হেরোইন, কখনো ইয়াবা দিয়ে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠাত। মারত উলঙ্গ করে এবং মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠাত। ৫ তারিখের পরে মানুষের কথা বলার সুযোগ হয়েছে, কথা বলছে। এই অপরাধী ঘাপটি মেরে এই শহরে অবস্থান করছিল। এই হাসান অসংখ্য বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীকে হত্যার আসামি। আমাদের আফসোস লাগে, ধিক্কার জানাই ওই ব্যবস্থাপনাকে যারা দেখার পরেও হাসানকে গ্রেপ্তার করছিল না। বিএনপি-জামায়াত এবং সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাকে আগামী দিনে আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সূত্র জানায়, হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১৩ সালে এসআই হিসেবে চাকরি হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি রাজশাহী নগরের মতিহার থানায় ছিলেন। পরে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) যোগদান করেন। চাকরি জীবনের শুরু থেকেই অত্যন্ত বেপরোয়া ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। ডিবিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দমন-নিপীড়ন চালান। শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষকেও চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের ফাঁদে ফেলেছিলেন তিনি। এসব অপকর্মের মাধ্যমে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। 

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাসুদ রানা নামে এক ব্যক্তি হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন এসআই মাহবুব হাসান সাদা পোশাকে মাসুদ রানার বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে রাজীব আলীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে শিমলা বাগানে তুলে নিয়ে যান। এরপর মাসুদ রানাকে ফোন করে জানানো হয় তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে রাজীবকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে। টাকা নেওয়ার পর রাজীবকে পরদিন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলায় দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ করেন রাজীব। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে হাসানের বিরুদ্ধে পুলিশের অভ্যন্তরীণ শাস্তি হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

বোয়ালিয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি মামলা আছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত