পাকিস্তান প্রকৃত সমাধান করবে?

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ১২:০১ এএম

সাতচল্লিশের পর একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগমুহূর্ত পর্যন্ত অনেক রাজনৈতিক উত্থান-পতন হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানকে দীর্ঘ বছর শোষিত-বঞ্চিত করেছে পশ্চিম পাকিস্তান। অর্থ, বাণিজ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো এবং মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে তেমন নজর ছিল না তাদের। পূর্ব পাকিস্তানিদের দেশের বাইরে যেতে হলে ভিসা নিতে হতো পশ্চিম পাকিস্তান থেকে। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হতো এক্সিট পারমিট বা প্রস্থানের অনুমতিপত্রের জন্য। যেখানে ব্যক্তিগত তথ্য এবং প্রস্থানের তারিখ উল্লেখ করতে হতো। এ ছাড়া অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নির্যাতন, অত্যাচার তো রয়েছেই। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পরও দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কিছু সমস্যা অমীমাংসিত রয়ে গেছে। সেগুলোর মধ্যে প্রধান তিনটি ইস্যু হলো মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের ক্ষমাপ্রার্থনা, স্বাধীনতার সময় সম্পদের সুষম বণ্টন এবং আটকে পড়া নাগরিকদের প্রত্যাবাসন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, দুদেশের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো অতীতে দুই দফায় সমাধান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, ১৯৭৪ সালে অমীমাংসিত বিষয়ের আনুষ্ঠানিক সমাধান হয়েছে। ঐতিহাসিক সেই দলিলপত্র দুদেশের কাছে আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি পরিবার এবং আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান হওয়া উচিত।’

সফর শুরুর দিন বেশ ব্যস্ত সময় পার করেছেন ইসহাক দার। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিন দিনের সফর শেষে রবিবার রাতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। ঢাকা ছাড়ার আগে অ্যাক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া বার্তায় ইসহাক দার বলেন, ‘এ সফর দুদেশের সম্পর্কে নতুন গতিসঞ্চার করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি শিক্ষা, সংস্কৃতি, বাণিজ্য, কূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়বে।’ পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সফরে বেশ কিছু বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা চালানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চেয়েছে কি না? এ ছাড়া সম্পদের সুষম বণ্টনসহ ১৯৭১ সালের বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে সমাধানের কথাও বলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন, এগুলো আগেই দুদফায় সমাধান হয়ে গেছে। তিনি মন থেকে অতীতের স্মৃতি মুছে ফেলে, দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়াসহ দুদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর এখনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এসব বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানান তিনি। তৌহিদ হোসেন আরও বলেছেন, ‘আমরা চাই, হিসাবপত্র এবং টাকাপয়সার বিষয়টি সমাধান হোক। এখানে যে গণহত্যা হয়েছে, সেটির বিষয়ে তারা দুঃখ প্রকাশ করুক, ক্ষমা চাক।’ গত রবিবার রাজধানীতে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব তথ্য জানান।

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ইসহাক দারকে নিয়ে পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার তৃতীয় সদস্য ঢাকা সফর করলেন। গত জুলাইয়ে আসেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এবং গত বুধবার ঢাকা আসেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান। কিন্তু ইসহাক দারের সঙ্গে ছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এক যুগেরও বেশি সময় পর এটি ছিল পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর। কিন্তু দুদেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর প্রকৃত সমাধান কবে এবং কীভাবে হবে, তা সময়ই বলবে। এর আগে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত