থমকে থাকা প্রকল্পে মামলার গেরো

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৫৪ এএম

খুলনা মহানগরীর শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি। তারপর পেরিয়ে গেছে সাড়ে তিন বছরেরও অধিক সময়। কিন্তু কাজে শম্বুক গতির কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়েছে ৭০ ভাগ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ বার সতর্ক বার্তা (ওয়ার্নিং লেটার) দিলেও কাজ  শেষ করেনি। এতে চলতি বর্ষা মৌসুমে চরম ভোগান্তিতে পড়ে পথচারীসহ এলাকাবাসী।

এদিকে জনভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় কাজ শুরুর জন্য রিটেন্ডার করেছে কেডিএ। কিন্তু নতুন করে কাউকে এখনো কাজ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে কার্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ফলে কবে কাজ শেষ হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

কেডিএ সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ  শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৩ সালের জুলাইয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়। ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জুনে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজই শুরু করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা কেডিএ। ফলে প্রথম দফায় এক বছর এবং দ্বিতীয় দফায় দুই বছর সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সেই লক্ষ্যও পূরণ না হওয়ায় পরে নতুন করে তৃতীয় দফায় এক বছর, চতুর্থবার প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে তিন বছর, পঞ্চম দফায় দুই বছর, ষষ্ঠ ধাপে ছয় মাস ও সপ্তম দফায় ছয় মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ মেয়াদ শেষ হয় চলতি জুনে। তবে সপ্তম মেয়াদে কাজের ভৌত অগ্রগতি হয় শতকরা ৭০ ভাগ।  বাকি কাজ সম্পন্নে অষ্টম ধাপে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ দুই বছরের প্রকল্পের মেয়াদ গিয়ে ঠেকেছে ১২ বছর বা এক যুগে।

মেয়াদের পাশাপাশি প্রকল্পটির ব্যয়ও বেড়েছে দফায় দফায়। প্রথমবার ২৮ কোটি টাকা বাড়ানো হলেও দ্বিতীয়বারে এক লাফে ১৩২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়। এতে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় এসে ব্যয় এসে দাঁড়ায় ২৫৯ কোটি টাকায়। পরে অবশ্য ব্যয় কিছুটা কমালে তা এসে দাঁড়ায় ২৫৪ কোটি টাকায়। আট ধাপে অবকাঠামো কাজের মধ্যে ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ বাবদ ঠিকাদাররা ৭০ ভাগ টাকা তুলেছেন। এখনো অবকাঠামো কাজের ৩০ শতাংশ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে সড়কে বেইজ টাইপ-১ (পাথরের স্তর), এসফল্ট (কার্পেটিং), ব্রিজ, ডিভাইডার ও স্ট্রিট লাইট স্থাপন রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স সড়কটির সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগের কারণে গত ৭ আগস্ট চুক্তি বাতিল করে কেডিএ। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের কাজ। কবে এই প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে সড়কের ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রেখেছিল ঠিকাদার। একাধিকবার ঠিকাদারকে নির্দেশনা দিয়েও কাজ হয়নি। ফলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তাদের জামানতের ১২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, জনভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় কাজ শুরুর জন্য রিটেন্ডার করা হয়েছে।

অবশ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান লিমিটেড অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের প্রকল্প ম্যানেজার মো. আশরাফ আলী বলেন, একনেকে ২০১৩ সালে সড়কটির নির্মাণ কাজের অনুমোদন দেওয়া হলেও ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনসহ নানাবিধ কারণে কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। তিনি বলেন, কেডিএ কার্যাদেশ বাতিল করায় মালামাল ফেরত নেওয়ার জন্য আদালতে মামলা করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত