ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে সরাসরি আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস। রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান ইস্যুর শান্তিপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবসময় সরাসরি আলোচনায় রাজি। তিনি মনে করিয়ে দেন, এর আগে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য ইরানের বিরুদ্ধে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
রুবিও বলেন, স্ন্যাপব্যাক (নিষেধাজ্ঞা) আমাদের কূটনৈতিক প্রস্তুতিকে দুর্বল করে না, বরং আরও শক্তিশালী করে। আমি ইরানের নেতাদের আহ্বান জানাই, তারা যেন অবিলম্বে এমন পদক্ষেপ নেয় যাতে দেশটি কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। শান্তির পথে হেঁটে ইরানি জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করুক। এর আগে আলোচনায় ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয় ইউরোপের তিন দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি (ই-থ্রি)। তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিতে জানান, বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ৩০ দিনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ‘স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম’ নামে পরিচিত এই ধারা অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদে কোনো ভিন্ন সিদ্ধান্ত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হবে। এর ফলে দেশটির ব্যাংকিং, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত বড় ধরনের চাপে পড়বে।
ঘটনার পরপরই ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই পদক্ষেপ কূটনীতির পথে বাধা তৈরি করছে। তবে তিনি জানান, তেহরান আলোচনার দ্বার পুরোপুরি বন্ধ করছে না। ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির অধীনে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ই-থ্রি নতুন করে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের উদ্যোগ নেয়। এ পদক্ষেপের আগে তারা জেনেভায় ইরানের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা চালায়, তবে সেখান থেকে পর্যাপ্ত অগ্রগতির ইঙ্গিত না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয়। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, এ সিদ্ধান্ত কূটনীতির ইতি টানবে না।
