জলাবদ্ধতার কবলে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৩:২৩ এএম

পুরো বর্ষা মৌসুম পানির সঙ্গে বসবাস। গত ৫ বছর ধরে এমন ভোগান্তি। বছরের অর্ধেক সময়ই জলাবদ্ধতার কবলে জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। পানিতে তলিয়ে ৭৫ একর জমির চিনাবাদাম, ধান, লাউ, করলা ও পেঁপে গাছের ক্ষতি হয়েছে। একই কারণে ৫০ একর জমিতে আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া গবেষণা কেন্দ্রের অভ্যন্তরের বাসভবনে পানি আটকে থাকায় নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। পৌরসভার অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ গবেষণা কেন্দ্রসংশ্লিষ্টদের। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জানা যায়, কৃষির চাহিদা ও গবেষণা পরিচালনার জন্য ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। প্রায় ১৮৩ একর জমির ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত। এখানে গবেষণা ও বীজ বর্ধনের জন্য ১৪৯ একর জমি রয়েছে। এ জমিগুলো গত দেড় মাস ধরে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে এ বছর প্রায় ১০ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পৌরসভাকে প্রতিবছর গড়ে ৯ লাখ টাকা করে কর দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি বছর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকে গবেষণা কেন্দ্রের উৎপাদিত ফসল ও শত একর জমি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গবেষণা কেন্দ্র। এ ছাড়াও দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বসবাসকারীরা। পানিতে তলিয়ে থাকে রাস্তা-ঘাট, বসতবাড়ি।

গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পৌরসভাকে বারবার জানিয়েও পানি নিষ্কাশনের কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। শহরের পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয়নি। পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডকে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত করে রাখা হয়েছে। এখানে বিজিবি ক্যাম্প এবং কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠানকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। এটার পাশাপাশি পানি যেদিক দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার কথা, সেই রেললাইনের পাশের জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। পুকুর তৈরি করতে গিয়ে উঁচু করে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ফলে শহরের পানি বের হওয়ার আর কোনো পথ নেই। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

গবেষণা কেন্দ্রের বাসিন্দা জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘ঘরের  ভেতরে ও টয়লেটে পানি। ঘর থেকে নামলেই হাঁটুপানি। রান্না-বান্না, বাচ্চাদের স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসায় কষ্ট হচ্ছে। বই খাতা ভিজে যাচ্ছে। সাপের ভয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকি। বাড়ি-ঘরে সাপ ঢুকে পড়ে।’

শিক্ষার্থী আশিক মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বাসায় থাকতে ভয় পাই। ঘরের ভেতরে বিষাক্ত সাপ আসে। স্কুলে যেতে হয় পানিতে ভিজে।’

গবেষণা কেন্দ্রের কর্মচারী সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘অফিসের রাস্তায় পানি চলাচলে অনেক অসুবিধা। সাপের আনাগোনার কারণে বেশি ভয় হয়। আমরা এই জলাবদ্ধতা থেকে উদ্ধার পেতে চাই।’

আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টির পানিতে পুরো গবেষণা কেন্দ্রের বেহাল অবস্থা। প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবনেও পানি ঢুকে পড়েছে। গবেষণা কেন্দ্রের ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার প্রশাসক আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ বলেন, ‘আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের মধ্যে জামালপুর পৌরসভা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এ পৌরসভার নিজস্ব কোনো মহাপরিকল্পনা নেই। যার ফলে বর্ষাকাল আসলেই এখানে-ওখানে পানি জমছে। বিগত সময়ের উন্নয়নগুলো অপরিকল্পিতভাবে করার ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য সবাইকে নিয়ে বসে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত