কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় ১৪টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়। ৪ মাস ১৮ দিন পর দানবাক্সগুলো খুলে মোট ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া যায়।
দানবাক্স খোলার কাজে অংশ নিয়েছেন মসজিদ কমপ্লেক্সের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা, পার্শ্ববর্তী মাদরাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় চার শতাধিক মানুষ। এবার দুইটি নতুন দানবাক্সও বসানো হয়েছিল।
দানবাক্স খোলার কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজাবে রহমত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল ১১টি দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল নয় কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তারও আগে, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পাওয়া যায় ৮ কোটি ২১ লাখ টাকারও বেশি।
পাগলা মসজিদে শুধু মুসলমানরাই নন, নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ দান করে থাকেন। লোকমুখে প্রচলিত আছে, এখানে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়। কেউ দান করেন নগদ টাকা, কেউ স্বর্ণালঙ্কার, আবার কেউ নিয়ে আসেন গরু, হাঁস-মুরগি কিংবা বিদেশি মুদ্রাও।
আড়াইশ বছরের পুরোনো এই মসজিদটি বর্তমানে দেশের অন্যতম ধর্মীয় ও দানবহুল প্রতিষ্ঠান। মসজিদের আয় থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজেও অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, এখানে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই কমপ্লেক্সে একসঙ্গে ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
গাজায় হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিখোঁজ
রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ