ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ বাজারে আসা ক্রেতা আবুল বাশার মাছ ও সবজির দাম শুনে হতবাক। আমিষের ঘারতি মেটাতে একমাত্র ভরাসা পাঙাশ এক সাপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়েছে। বাধ্য হয়ে আধা কেজি ওজনের একটি পাঙাশ কিনেছেন। তার কথা গরিবের পাঙাশের দামও যদি বেড়ে যায় তাইলে মানুষ খাইবো কী।
শনিবার (৩০ আগস্ট ) ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের মাছ বাজারে ক্রেতা আবুল বাশারের সঙ্গে আলাপকালে এভাবে কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
শুধু পাঙাশেই নয়, সবজির দামেও নাকাল ক্রেতারা । বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে। বাজারে উঠেছে আগাম জাতের শিম। প্রতি কেজি শিম ডাবল সেঞ্চুরি করে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা ।
খাদিজা বেগম নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজার করতে এসে দেখি নতুন শিম উঠেছে। ভেবেছিলাম কিনবো কিন্তু দাম শুনে শখ মিটে গেছে।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার ও আঠারবাড়ি বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে সব ধরনের মাছের দাম প্রায় চড়া। সপ্তাহ ব্যবধানে কেজি প্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে প্রতি কেজি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের শিং ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৬০ টাকা।
প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়, বেগুন ৮০, টমেটো ১৪০, করলা ১২০,বরবটি ৯০, কাকরুল ৮০, পটল ৭০, ঢেঁড়শ ৮০, চিচিঙ্গা ৮০, গাজর ১২০, জিঙ্গা ৬০ ও কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
স্কুল শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, আগে জানতাম মাছে-ভাতে বাঙালি। কিন্তু এখন সাধারণ মানুষের পাতে মাছ ওঠাই দুষ্কর। সবজি বাজারেও আগুন।
পৌর বাজারের পাঙাশ মাছ ব্যবসায়ী হযরত আলী ও দেশীয় জাতের মাছ ব্যবসায়ী ইউসুফ বলেন, বর্তমানে মাছের খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় মাছের দামও বেড়েছে। এতে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা বেশি দামে কিনে এনে আমরা বেশি দামে বিক্রি করি।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টিতে স্থানীয় কৃষকদের অনেক শাক-সবজির জমিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে বাজারে এলাকার কৃষকদের উৎপাদনকৃত সবজি কম ওঠায় সবজির কিছুটা সংকট রয়েছে। তাই দামও তুলনামূলক কিছুটা বেশি,তবে আহামরি দাম বাড়েনি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সালাউদ্দিন বিশ্বাস জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। মূল্য তালিকা না টানালে ও অতিরিক্ত দাম নিলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
