ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা তথ্য প্রযুক্তি লীগের সভাপতি আজগর হোসেন ও তার ভাই ইলিয়াছ হোসেনের প্রতারনার ফাঁদে পড়ে নুর হোসাইন শাওন নামে এক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
মঙ্গলবার (২রা সেপ্টেম্বর) সোনাগাজী পৌরশহরের একটি রেস্তোঁরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী নুর হোসাইন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নুর হোসাইন শাওন বলেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মো. ইলিয়াছের সাথে আমি দোকান ঘরের পজিশন বাবদ ১৩ লাখ টাকা দিয়ে যৌথভাবে আসসুন্নাহ ফার্মেসী নামে ব্যবসা শুরু করি। ব্যবসা চলাকালীন পরবর্তীতে আমি ধার দেনা করে ১৫ লাখ টাকা পুঁজি দিয়েছি। মো. ইলিয়াছ দোকান ঘরের মালিক দাবি করে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে আমার কাছ দোকান ভাড়া আদায় করে। এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ইলিয়াছ পুনরায় অতিরিক্ত দশ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করে। তার প্রস্তাবে আমি রাজি না হলে তার ভাই উপজেলা তথ্য প্রযুক্তি লীগের সভাপতি আজগর হোসেনসহ আমার সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, এক পর্যায়ে আমি যৌথ ব্যবসায় প্রদানকৃত ও পরবর্তীতে ব্যবসায় পুঁজি দেওয়া টাকা ফেরত চেয়ে ইলিয়াছ হোসেনকে হিসাব নিকাশ করার প্রস্তাব দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডিজাইন টু কনষ্ট্রাকশন নামক কোম্পানীর নিকট জামানত নিয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিবে মর্মে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। কোম্পানির কাছ থেকে জামানত নিয়ে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে কৌশলে আমার কাছ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চাবি নিয়ে গত মে মাসের ১৭ তারিখে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকানঘর দখল করে।
শাওন আরও বলেন, ইলিয়াছের সাথে আমার লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ের সকল প্রমাণাদি ও কল রেকর্ড রয়েছে। সকল প্রমাণ থাকার পরও সে প্রতারণা করে আমার টাকা আত্মসাৎ করে দফায় দফায় প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। সংবাদ সম্মেলনে প্রতারকদের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ব্যবসায়ী নুর হোসাইন শাওন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী শাওনের সমন্ধি শাখাওয়াত হোসেন রায়হান বলেন, আমার ভগ্নিপতির কাছ থেকে জোর পূর্বক দোকান দখলের বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজে স্ব শরীরে ইলিয়াছের সাথে কথা বললে সে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে ডিসি, এসপি, পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব সবাই তার পকেটের লোক দাবি করে এ বিষয় নিয়ে কথা না বলতে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন। সে ইসলামি ব্যাংক সোনাগাজী শাখা থেকে আমার বাবার অ্যাকাউন্ট থেকে নিজে টাকা উত্তোলন করে সেখানে প্রতারনার মাধ্যমে আমার ভগ্নিপতির নাম লিখে স্বাক্ষর করেন। যার সিসি টিভি ফুটেজও আমাদের কাছে রয়েছে।
এ বিষয়ে ইলিয়াসের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি তাদের কাছে ৮ লাখ টাকা পাবো। টাকা না দিয়ে তারা আমার নামে উল্টো হামলা মামলা দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
