অস্তিত্ব সংকটে শরীয়তপুরের কোয়ারাগ খাল, পুনরুদ্ধারের দাবি কৃষকদের

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:১১ পিএম

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের কোয়ারাগ এলাকায় দখল করে খাল ভরাটের কারনে সামান্য বৃষ্টিতে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। তাই পানি নিষ্কাশন বন্ধ হওয়ায় কয়েকযুগ ধরে ওই এলাকার প্রায় ১০০ একর জমিতে সঠিক সময় চাষাবাদ করতে পারছেন স্থানীয় কৃষকরা। খাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

Shariatpur canal occupation pic -6

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ৬০ দশকে শরীয়তপুরের কোয়ারাগের খাল দিয়ে নৌকা চলতো। ওই খাল বর্তমানে দেখে বোঝার উপায় নাই সেই ইতিহাস। এলাকার প্রভাবশালীরা ২০ থেকে ২৫ স্থানে মাটি দিয়ে ভরাট করে ব্যক্তিগত সড়ক ও স্থাপনা তৈরি করায় অস্তিত্ব সংকটে পরেছে খালটি। দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হওয়ায় কয়েকযুগ ধরে ওই এলাকার প্রায় ১০০ একর জমিতে সঠিক সময় চাষাবাদ করতে পারছেন স্থানীয় কৃষকরা। তিন ফসলি জমি হলেও ওই এলাকার কৃষকরা বছরে একবার ফসল ফলাচ্ছেন। পানির কারণে ভালো ফলন পাচ্ছেন না তারা। এছাড়া বেশিরভাগ সময় কোয়ারাগ এলাকার বাসিন্দাদের পানি বন্দী হয়ে থাকতে হচ্ছে।

জানা যায়, কোয়ারাগ এলাকায় প্রায় পাঁচশ পরিবারের বসবাস। এরমধ্যে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।  

কোয়ারাগ এলাকার কৃষক আলহাজ্ব মীর মালত বলেন, ১৬০ শতাংশ জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছিলাম সেই ধান কাটতে হয়েছে নৌকা দিয়ে। জলাবদ্ধতার কারণে আমরা কোয়ারাগবাসী অনেক কষ্টে আছি। কিছু কিছু পয়সা ওয়ালা ব্যক্তি তাদের নিজের স্বার্থের কারণে খাল বন্ধ করে আমাদের দুর্ভোগকে ফেলেছে। কিন্তু বিগত সময় জনপ্রতিনিধিরা এই খাল উদ্ধারে কোন উদ্যোগ নেয়নি। 

খাল ভরাটের ব্যাপারে খলিল মোল্লা বলেন, এক সময় নদী থেকে পানি আসতো কোয়ারাগ খালটি দিয়ে। সেই পানি দিয়েই আমরা চাষাবাদ করতাম। সরকারি খালটিতে প্রভাবশালীরা বিভিন্ন যায়গায় বাঁধ দেয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে চাই। আগেরমতো খালটি প্রবাহমান চাই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, কোয়ারাগ এলাকার খালটি দখল করে ২০ থেকে ২৫টি জায়গায় মাটি ভরাট করা হয়েছে। প্রবাহমান খালে মাটি ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কৃষকদের চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছে। তিন ফসলি জমিতে এখন এক ফসল হচ্ছে। তাই খালটি পুনখননের জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সঙ্গে কথা হয়েছে। খালটি পুন:খনন হলে কৃষকরা তাদের জমিতে সঠিকভাবে ফসল ফলাতে পারবে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, অভিযোগ পেলে শুনানি করে একটি নির্দিষ্ট সময় দিব যে যতটুকু খাল দখল করছে, তা অপশাসনের জন্য। যদি অপসারণ না করে তাহলে আমরা অভিযানের মাধ্যমে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করবো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত