জুন মাসেই ৭৮ হামলা

পাকিস্তানে রাজনৈতিক দলের সমাবেশে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত ১৫

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৪০ পিএম

পাকিস্তানের কোয়েটার সারিয়াব রোডে বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) সমাবেশে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার বেলুচিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বখত মুহাম্মদ কাকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহতদের বিষয়ে কাকার বলেন, বিস্ফোরণে আহত ৩৮ জনের মধ্যে আটজনকে বর্তমানে ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কারণে আত্মঘাতী হামলাকারী সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

এর আগের দিন সন্ধ্যায় কোয়েটার শাহওয়ানি স্টেডিয়ামের কাছে ব্যস্ত এলাকায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বহু আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি আহতদের প্রয়োজনে করাচিতে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টির রাজনৈতিক সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

শোক ও সংহতি প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট জারদারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালানোর এবং হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তাদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

রাজনৈতিক সমাবেশে হামলাকে বেলুচিস্তানে অশান্তি সৃষ্টির জন্য সন্ত্রাসীদের নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রের প্রমাণ বলে অভিহিত করেন শাহবাজ। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা বেলুচিস্তানের শান্তি ও উন্নয়নের শত্রু। আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাব যতক্ষণ না এই অভিশাপ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়। নিরীহ ও নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর হামলা ‘কাপুরুষোচিত ও নিন্দনীয়’।

এদিকে, পাকিস্তানের কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) এক মুখপাত্র জানান, আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসবিরোধী ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মুখপাত্র আরও জানান, আত্মঘাতী হামলাকারীর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

সাম্প্রতিক এই সন্ত্রাসী হামলার পটভূমিতে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে হামলার সংখ্যা বেড়ে গেছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে দেশটিতে মোট ৭৮টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, যাতে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন নিরাপত্তাকর্মী, ৩৯ জন বেসামরিক নাগরিক, ছয় জঙ্গি এবং স্থানীয় শান্তি কমিটির দুই সদস্য রয়েছেন।

সর্বমোট ১৮৯ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১২৬ জন নিরাপত্তা সদস্য ও ৬৩ জন বেসামরিক নাগরিক। জুন মাসের সহিংসতা ও অভিযানে মোট ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন— এদের মধ্যে ৫৫ জন নিরাপত্তা সদস্য, ৭৭ জন জঙ্গি, ৪১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং দুইজন শান্তি কমিটির সদস্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত