সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:২৮ এএম

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর (ইতিমধ্যে প্রয়াত) বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন পিরোজপুরের তিন ব্যক্তি। একযুগের বেশি সময় আগে সাঈদীর মৃত্যুদ-ের রায় হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। আপিলের পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সাত বছরের বেশি সময় আগে তাকে আমৃত্যু কারাদ-াদেশ দেয়। যাদের সাক্ষ্যে সাঈদীর সাজা হয়, তাদের কয়েকজন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় একটি অভিযোগ দায়ের করে বলেছেন, তাদেরকে হত্যার হুমকি, নির্যাতন করে জোরপূর্বক সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আর এ বিষয়ে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনকে অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার আরজি জানিয়েছেন তিন সাক্ষী।

তারা হলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মো. মাহবুবুল আলম হাওলাদার, ৭ নম্বর সাক্ষী আলতাফ হাওলাদার ও ৬ নম্বর সাক্ষী মাহতাব উদ্দিন হাওলাদার। তাদের সঙ্গে ছিলেন সাঈদীর মামলার আরেক সাক্ষী মধুসূধন ঘরামীর নাতি সুমন্ত মিস্ত্রি।

অভিযোগে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ,  সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির, বিচারপতি নিজামুল হক, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত, সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সাবেক সমন্বয়ক সানাউল হকসহ পিরোজপুরের স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের কয়েক নেতাকর্মী, আওয়ামীপন্থি কয়েকজন আইনজীবীকে আসামি করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদ-ের রায় হয়। পরে খালাস চেয়ে আপিল করলে ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদ-াদেশ দেয়। কারাবাসে থাকাকালীন ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। 

গতকাল দুপুরে অভিযোগ দাখিলের পর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাঈদীর মামলার তিন সাক্ষী। সাঈদীর মামলার বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদার বলেন, ‘এমন একজন আলেমের (দেলাওয়ার হোসাইন) বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে আমাদের বাধ্য করা হয়। অস্ত্রের ভয় দেখানো হয়। সাক্ষ্য না দিলে আমাদের মেরে ফেলবে। হুমকির মধ্যে জীবন বাঁচাতে আমরা সাক্ষ্য দিতে আসি।’ তিনি বলেন, এই বিষয়টা (সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য) আমাকে বহু যন্ত্রণা দিয়েছে। দেশবাসীকে জানানোর জন্য আজকে এসেছি। আমাদের মনুষ্যত্বকে প্রকাশ করতে এসেছি।’ বিচারের সময় কেন তা প্রকাশ করলেন না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তখন বলার মতো কোনো পরিবেশ ছিলনা। এখন একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাই বলতে এসেছি।’ অভিযোগ জানাতে আসতে কেউ প্ররোচনা বা ভয় দেখিয়েছে কি না, ‘এমন প্রশ্নে মাহবুবুল আলম হাওলাদার বলেন, ‘না, আমাদের কেউ ভয় বা প্ররোচনা দেয়নি। নিজেদের তাড়নায় এসেছি।’ অপর সাক্ষী মাহতাব উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘আমরা আর বেশিদিন বাঁচবো না। তাই এ বিষয়টি জানাতে চাই। সাঈদী সাহেব ভাল মানুষ ও আলেম ছিলেন। আমরা প্রাণভয়ে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলাম।’

সাক্ষী মধুসূধন ঘরামীর নাতি সুমন্ত হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সাঈদী সাহেব ভাল মানুষ ছিলেন। আমার দাদু ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।’ তিন জনকে আইনি সহায়তা দেওয়া আইনজীবী পারভেজ হোসাইন বলেন, সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে তাদের মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ভয় দেখানো হয়। ফলে তারা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য হন। প্রসিকিউশন শাখায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত