শুক্রবার সকালে মারাকানায় ফিরছে ব্রাজিল। বাছাইপর্বের শেষ ঘরের মাঠের ম্যাচে মুখোমুখি হবে ছিটকে পড়া চিলির, যারা টেবিলের একেবারে নিচে অবস্থান করছে। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে সেলেসাওদের জন্য এটি যদিও আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ। কেননা তারা আগেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। তবে চিলির জন্য ম্যাচটি নিজেদের গৌরব রক্ষার লড়াই, এবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুঃস্বপ্নের মতো অভিযানের শেষ পর্বে খানিকটা শান্তির খোঁজ।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করলেও ব্রাজিলের যোগ্যতা অর্জনের পথটা সহজ ছিল না। একপর্যায়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কোয়ালিফাইং জোনের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এখনো তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার চেয়ে পিছিয়ে আছে বিশাল ১০ পয়েন্টে। পয়েন্ট টেবিল ছবিটা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরছে : দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ স্থানের ব্যবধান মাত্র তিন পয়েন্ট, অথচ শীর্ষে আর্জেন্টিনা অনেক এগিয়ে। ব্রাজিলের জন্য এই অভিযানটা হতাশা ও অনিয়মিত পারফরম্যান্সের। যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইকুয়েডরের তিন পয়েন্ট খোয়ানো। অবশ্য তারপরও তারা গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ব্রাজিলের ওপরে আছে।
ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তির আগমনে কিছুটা স্থিতি ফিরেছে সেলেসাওদের তাঁবুতে। তার শুরুর ম্যাচে ইকুয়েডরের মাঠে কষ্টার্জিত গোলশূন্য ড্র, এরপর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ১-০ ব্যবধানে জয়। বাছাইপর্বের শেষ আট ম্যাচে ব্রাজিলের হার মাত্র একবার, সেটিও বুয়েন্স আয়ার্সে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ওই ম্যাচের পরেই ব্রাজিলের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত হন দরিভাল জুনিয়র। বাছাইয়ের সফরের ব্রাজিলের টার্নিং পয়েন্ট আসে সান্তিয়াগোতে। নাটকীয় ওই ম্যাচে ২-১ গোলে চিলিকে হারায় ব্রাজিল। সেই জয়ে তারা কোয়ালিফাইং জোনে টিকে থাকার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক দাপটও বাড়িয়েছে। কারণ চিলির বিপক্ষে ব্রাজিলের টানা পঞ্চম জয় ছিল এটি।
প্রতিপক্ষ দুর্বল হলেও আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ব্যবহৃত চার ফরোয়ার্ড নিয়েই খেলবেন তিনি। সম্ভাব্য আক্রমণভাগে থাকবেন রাফিনিয়া, এসতেভাও, জোয়াও পেদ্রো ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। আনচেলত্তি বলেন, ‘প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আক্রমণে, রক্ষণে এবং তীব্রতায় আমরা ভালো খেলেছি। চিলির বিপক্ষেও তাই চাই তীব্র খেলা, ভালো ডিফেন্স, বলের ওপর চাপ এবং দ্রুত আক্রমণ। আশা করি দর্শকরা খুশি হবেন।’ এসতেভাওকে নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলের ভেতরে খেলা মিডফিল্ডাররা কমে গেছে। এসতেভাও সেই ধরনের খেলোয়াড়, যার মান অসাধারণ। ও ভেতরে খেলতে পারে, যেমন রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুস, মার্তিনেল্লিও পারে।’
