টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রায় সব ধরনের টিকার সংকট দেখা দেওয়ায় থমকে গেছে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি। সরবরাহ না থাকায় এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সময়মতো টিকা দিতে না পেরে শিশু ও নবজাতকদের পরিবারে ব্যাপক উৎকণ্ঠা কাজ করছে। সরেজমিন মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে গিয়ে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর এ উপজেলায় ১০ হাজারের অধিক শিশু ও নবজাতকের টিকার চাহিদা রয়েছে। টিকাগুলোর মধ্যে কোনোটি একবারই দিতে হয়। আবার কোনো কোনো টিকা নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর ২-৩ বার পর্যন্ত দিতে হয়। টিকা প্রদানের জন্য দুটি স্থায়ী ও তিনটি অস্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে।
উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের মাঝালিয়া গ্রাম থেকে আসা চম্পা নামের এক নারী বলেন, ‘কোথাও টিকা না পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে জানতে পারি টিকা নেই। তাই ফিরে যাচ্ছি।’ টিকা দিতে না পেরে নিজের ৪ মাস বয়সী শিশুর সুস্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন থেকে আসা রাহেলা নামের আরেক নারী বলেন, ‘আমার বাচ্চাকে এ পর্যন্ত সব টিকা নিয়ম করে দিয়েছি। কিন্তু এবার আমার নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী টিকা দিতে এসে জানতে পারি টিকা নেই। এভাবে আরও বেশ কয়েকজন নারীকে তাদের শিশুসন্তানকে নিয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ইজাজুল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শিশুদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পিসিভি, বিওপিভি, আইপিভি ও এমআর টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় গত ১১ আগস্ট থেকে শুধু বিসিজি টিকা ছাড়া অন্য কোনো টিকা দিতে পারছেন না তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি মাসে জেলা সিভিল সার্জন বরাবর আমরা আমাদের টিকার চাহিদাপত্র পাঠাই। এবারও পাঠিয়েছি, কিন্তু টিকা সরবরাহ না করায় এই সংকট দেখা দিয়েছে।’ টিকা গ্রহণ বিঘ্নিত হলে তা শিশু স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলেও জানান তিনি।
