শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের কোয়ারাগ এলাকায় দখল করে খাল ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়ায় কয়েক যুগ ধরে এলাকার ১০০ একর জমিতে সঠিক সময়ে চাষাবাদ করতে পারছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এক সময় শরীয়তপুরের কোয়ারাগের খালটি দিয়ে নৌকা চলত। কিন্তু খালটির বর্তমান অবস্থা দেখে তা বোঝার উপায় নেই। এলাকার প্রভাবশালীরা ২০-২৫ স্থানে মাটি দিয়ে ভরাট করে ব্যক্তিগত সড়ক ও স্থাপনা তৈরি করায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে খালটি। দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। পানির কারণে ভালো ফলন পাচ্ছেন না কৃষকরা। এছাড়া বেশিরভাগ সময় কোয়ারাগ এলাকার বাসিন্দাদের পানিবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে।
জানা যায়, কোয়ারাগ এলাকায় প্রায় ৫০০ পরিবারের বসবাস। এরমধ্যে দুই শতাধিক পরিবার কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কোয়ারাগ এলাকার কৃষক মো. মীর বলেন, ‘১৬০ শতাংশ জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছিলাম। সেই ধান কাটতে হয়েছে নৌকা দিয়ে। জলাবদ্ধতার কারণে আমরা কোয়ারাগবাসী অনেক কষ্টে আছি। কিছু কিছু পয়সাওয়ালা ব্যক্তি তাদের নিজের স্বার্থের কারণে খাল বন্ধ করে আমাদের দুর্ভোগে ফেলেছে। কিন্তু বিগত সময় জনপ্রতিনিধিরা এই খাল উদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’
কোয়ারাগ এলাকার বাসিন্দা কাজী সাইফুল বলেন, ‘আমাদের গাছসহ জমি দখল করেছেন কাজী রুহুল আমিন। শুধু তাই নয়, তিনি প্রভাব খাটিয়ে কোয়ারাগ খালের বড় একটি অংশ দখল করে নিয়েছেন। তার দেখাদেখি ২০-২৫ জন ব্যক্তি খাল ভরাট করে ব্যক্তিগত সড়ক তৈরি করেছে। এতে কোয়ারাগ খালটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। খাল দখল হওয়ায় কোয়ারাগ এলাকায় ফসল ফলাতে পারছেন না কৃষকরা। তাই সরকারের কাছে খালটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানাই।’
খাল ভরাটের ব্যাপারে খলিল মোল্লা বলেন, ‘এক সময় নদী থেকে পানি আসত কোয়ারাগ খালটি দিয়ে। সেই পানি দিয়েই আমরা চাষাবাদ করতাম। সরকারি খালটিতে প্রভাবশালীরা বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দেওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে চাই। আগের মতো খালটি প্রবহমান চাই।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, কোয়ারাগ এলাকার খালটি দখল করে ২০-২৫ জায়গায় মাটি ভরাট করা হয়েছে। প্রবহমান খালে মাটি ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কৃষকদের চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছে। তিন ফসলি জমিতে এখন এক ফসল হচ্ছে। তাই খালটি পুনর্খননের জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সঙ্গে কথা হয়েছে। খালটি পুনর্খনন হলে কৃষকরা তাদের জমিতে সঠিকভাবে ফসল ফলাতে পারবে।’
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আমরা অভিযানের মাধ্যমে খাল দখলমুক্ত করব।’
