পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষ্যে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস। সিরিকোট দরবারে আলীয়া কাদেরিয়ার সাজ্জাদনশীন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ জুলুসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জুলুসকে কেন্দ্র করে পুরো নগরী জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে অন্যরকম আমেজ। ‘আসসালাতু আসসালামু আলাইকা এয়া রাসুলুল্লাহ’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে বন্দর নগরীর রাজপথ।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ষোলশহর আলমগীর খানকাহ থেকে এই জুলুস শুরু হয়। আল্লামা সাবির শাহকে বহনকারী গাড়ির অগ্রভাগে শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল অবস্থান সবার দৃষ্টি কেড়েছে। একে অপরের হাত ধরে জিকির আর দরুদ মুখে ধীরে ধীরে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন জুলুসের পথে। তার আগেই খানকার আশেপাশে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলী ময়দানসহ বিস্তীর্ণ এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। জুলুসের জন্য ঘোষিত রুট অনুযায়ী বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর, দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড় হয়ে পুনরায় একই রুটে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া ময়দানে গিয়ে মিলিত হবার কথা রয়েছে। সেখানে মিলাদ মাহফিল ও যোহরের নামাজ শেষে মুনাজাতের মধ্য দিয়ে জুলুস সমাপ্ত হবে।
এদিন সকাল থেকেই জুলুসে যোগ দেওয়ার জন্য নগরীর বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে গাড়ির মিছিল ঢুকছে নগরীতে। মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকেও দলে দলে মানুষকে ছুটতে দেখা যায় ষোলশহর আলমগীর খানকাহের দিকে। এ ছাড়া হাজার হাজার মানুষ সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্পটে অবস্থান করতে দেখা যায় জুলুসে অংশগ্রহণের জন্য।
জুলুসকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও সড়ক মোড়ে শোভা পাচ্ছে ঈদে মিলাদুন্নবীতে স্বাগত জানিয়ে তৈরি করা তোরণ। মাইকে বাজছে হামদ, না’ত, গজলসহ নানা ধরনের ইসলামী সঙ্গীত। ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ এল রে দুনিয়ায়, এয়া নবী সালাম আলাইকা, তুমি সৃষ্টির সেরা নবী কামলিওয়ালা, সাহারাতে ফুটল রে ফুল রঙ্গিন গুলে লা লা ইত্যাদি ইসলামী নানা হামদ-না’তের সুরে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেছে বন্দর নগরীর রাস্তা ঘাট। জুলুসকে কেন্দ্র করে পুলিশের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দার হাট, মুরাদপুর, চকবাজার, ষোলশহর, জিইসি, ওয়াসা মোড়, কাজির দেউড়ী লালখানবাজারসহ বিরাট অংশে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পৃথিবীতে আগমনের দিনটি স্মরণে প্রতি বছর ১২ রবিউল আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে এই জশনে জুলুসের আয়োজন হয়ে থাকে। এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫৪তম জুলুস।
জশনে জুলুসের আয়োজক প্রতিষ্ঠান আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ’র নির্দেশনায় ১৩৯৪ হিজরী চট্টগ্রামের বলুয়ার দীঘির পাড় খানকা এ কাদেরিয়া থেকে প্রথম এই জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) শুরু হয়। দীর্ঘ ৫৪ বছরের এই জুলুস এখন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবীর এত বড় জুলুসের নজির পৃথিবীর আর কোথাও নেই।
